স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন ও একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের দাবিতে রাজধানীর বনানীতে সড়ক অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির নেতাকর্মীরা। রোববার দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সদর দপ্তরের সামনে সড়ক বন্ধ করে তারা অবস্থান নেন।
এর ফলে বনানী থেকে মহাখালীমুখী যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্রিয় ভূমিকা খুব একটা দেখা যায়নি।
আন্দোলনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন স্লিপার বাস মালিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বলপ্রয়োগ করা যাবে না।
মালিকদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—স্লিপার বাস পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি, ফিটনেস ও রুট পারমিটের জটিলতা দ্রুত নিরসন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে অযৌক্তিক জরিমানা, তল্লাশি ও বাস আটক বন্ধ করা।
তাদের ভাষ্য, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিআরটিএর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে স্লিপার বাসকে একটি কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। বাস বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে কারিগরি, নিরাপত্তা ও পরিচালনসংক্রান্ত স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করা প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
সমিতির নেতারা জানান, স্লিপার বাস খাতে ইতোমধ্যে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এই পরিবহনসেবার সঙ্গে চালক, হেলপার, সুপারভাইজার, মেকানিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মালিকদের পাশাপাশি এসব শ্রমিকও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
তারা আরও জানান, স্লিপার বাসের চলাচল সংক্রান্ত একটি রিট পিটিশন—নং ১২৯০/২০২৫—হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ কারণে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিআরটিএকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্লিপার বাসের কারিগরি ও নিরাপত্তাবিষয়ক কাঠামো নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটসংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সমিতির নেতাদের বক্তব্য, তারা সরকারি আইন ও বিধিবিধান মেনে পরিবহনসেবা পরিচালনা করতে আগ্রহী। তবে আধুনিক এই পরিবহনব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ না করে মালিক, শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা উচিত।
স্মারকলিপি দিতে বিআরটিএ কার্যালয়ে যান বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব উদ্দিন মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বাবুসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতা।
এদিকে, ডিএমপির ট্রাফিক মহাখালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশরাকুল কবীর জানান, স্লিপার কোচের মালিক ও কর্মচারীরা বাস চলাচলের অনুমোদনের দাবিতে বনানী সেতু ভবনের সামনের সড়কে আন্দোলন করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
