ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার কোনো ভেদাভেদ নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুদৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এমন একটি সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠনই সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা উল্লেখ করেন, সরকারের এমন জনবান্ধব পদক্ষেপ দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আলোচনাকালে উভয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও বর্তমান নানা সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের সার্বিক কল্যাণে প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকের একপর্যায়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে আসন্ন দুর্গাপূজার বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শনের বিনীত আমন্ত্রণ জানান। শুভেচ্ছা বিনিময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ‘কঠিন চীবরদান’ উৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং দেশবাসীর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সভা শেষে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পাঁচ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের জন্য তিন কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের চেক সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সান নিউজ / রাজীব
