নেপালের পাহাড়ি ঢল ও ভারতের গঙ্গা অববাহিকা দিয়ে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দৌলতপুরের নবগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বন্যার কথা মাথায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রীও মজুদ করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহা. রোকনুজ্জামান বলেন, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির প্রবাহের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদ্মার তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবির সুবেদার মো. মিজানুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শুভগত বিশ্বাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো. এমদাদুল হক টোকন এবং দৌলতপুর থানার প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাহেদ খান। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সভায় অংশ নেন এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
নদী গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ঢল ভারতের বিভিন্ন নদীপথ হয়ে ফারাক্কা ব্যারাজ অতিক্রম করে বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় দুর্যোগের সময় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
