দেশের বিপুল যুবসমাজকে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও কর্মমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবদের প্রশিক্ষিত করে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সাভারে জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল যুবসমাজ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব আকারে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতি চার মাস পরপর সভা আয়োজন করা হবে।
যুব প্রশিক্ষণকে আরও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমিনুল হক বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৮৩টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে যেসব ট্রেডের চাহিদা কমে গেছে বা সময়োপযোগী নয়, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাদ দিয়ে নতুন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিং, মোবাইল সার্ভিসিং, কেয়ারগিভিং ও তৃতীয় ভাষা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন আধুনিক কোর্স উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়টিও মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে।
যুবদের স্বাবলম্বী করতে দেওয়া ঋণের অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ঋণের অর্থ যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপব্যবহারের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশিক্ষিত যুবদের যথাযথ মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবদের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে এসব তথ্যের ভিত্তিতে তাদের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সব কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
এ ছাড়া কর্মশালায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
