প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট ঘাস, মাটি বা বালুর ওপর খালি পায়ে হাঁটা শরীর ও মনের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রকৃতির সংস্পর্শে এভাবে হাঁটার অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক শিথিলতা এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চার্জ পৃথিবীতে নিঃসৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে শরীরের প্রাকৃতিক বৈদ্যুতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তারা জানান, এ প্রক্রিয়া কোষের রিপোলারাইজেশন বা স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক অবস্থা পুনঃস্থাপনে ভূমিকা রাখতে পারে। রিপোলারাইজেশন হলো এমন একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোষে বৈদ্যুতিক ভারসাম্য ফিরে আসে। এর ফলে লোহিত রক্তকণিকার স্বাভাবিক চলাচল সহজ হতে পারে, যা রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খালি পায়ে হাঁটার সম্ভাব্য উপকারিতার মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ কমানো, শরীরকে শিথিল হতে সহায়তা করা, মানসিক স্বচ্ছতা ও আবেগগত সুস্থতা বৃদ্ধি এবং ভালো ঘুমে সহায়ক হওয়া। পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগী থাকতে এবং মানসিক প্রশান্তি অর্জনেও এটি সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘাস, বালু, মাটি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক ভূমির ওপর প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ৩০ মিনিট খালি পায়ে হাঁটার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষ করে সকালে এ অভ্যাস করলে তুলনামূলক বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেন, খালি পায়ে হাঁটার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা এখনো চলমান এবং প্রচলিত সব দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ নেই। তাই এটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি অভ্যাস হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে কোনো চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিস, পায়ের স্নায়ুর সমস্যা বা পায়ে ক্ষত রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস শুরুর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সান নিউজ/ হুমায়রা
