২. কোরআন হোক আত্মার খোরাক: শরীরের পুষ্টির জন্য যেমন সুষম খাদ্যের প্রয়োজন, আত্মার বেঁচে থাকার জন্যও প্রয়োজন নিয়মিত খোরাক। আর আত্মার শ্রেষ্ঠ খাদ্য আল্লাহর কালাম। আমরা যখন কোরআন পাঠ কমিয়ে দিই, তখন আমাদের আত্মা অপুষ্টিতে ভোগে; যার ফলে জীবনে নেমে আসে অশান্তি, অস্থিরতা ও সংকীর্ণতা।
নিয়মিত কোরআন পাঠ আত্মার সেই ঘাটতি পূরণ করে মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনে।
৩. দাসত্বের আবহে কোরআন পাঠ: কোরআন পাঠের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দুয়ার হলো ‘উবুদিয়্যাহ’ বা দাসত্ব। নিজেকে আল্লাহর একজন নগন্য দাস মনে করে যখন কেউ কোরআন পড়ে, তখন সে প্রতিটি হরফে মনোযোগী হয়।
কারণ সে জানে এটি তার মালিকের পক্ষ থেকে আসা নির্দেশ। একজন অনুগত ভৃত্য যেমন তার প্রভুর নির্দেশের অপেক্ষায় কান খাড়া করে থাকে, মুমিনও তেমনি কোরআনের আদেশ-নিষেধ ও দিকনির্দেশনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তা পালনে সচেষ্ট হয়। এই আনুগত্যই মানুষের মাঝে হক ও বাতিলের পার্থক্য করার শক্তি বা ‘বাসিরাত’ তৈরি করে।
৪. সর্বোচ্চ জ্ঞান ও পরিচয়ের উৎস: কোরআন হলো মহান আল্লাহকে জানার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আল্লাহর গুণাবলি, তাঁর মহিমা এবং সৃজনশীলতা বুঝতে হলে কোরআনের আয়াতগুলোর বিকল্প নেই। যেমন সুরা হাশরে আল্লাহর সুমহান নামসমূহ ও গুণাবলির বর্ণনা (আয়াত: ২২-২৪)।
যখন আমরা অনুধাবন করি যে, এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু নিজ নিজ ভাষায় আল্লাহর তসবি পাঠ করছে (সুরা ইসরা, আয়াত: ৪৪), তখন আমরাও সেই মহাজাগতিক ইবাদতের স্রোতে শামিল হই।
৫. জীবনযুদ্ধের রসদ কোরআন: কোরআন আমাদের সামনে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন সংঘাতের চিত্র তুলে ধরে। নবী-রাসুল ও মুমিনদের ত্যাগ, ধৈর্য এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্যের কাহিনীগুলো আমাদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অভয় দিয়ে বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
