ফুটবলের সবুজ গালিচায় একদিনের ব্যবধানে এমন সব অদ্ভুত ও কাকতালীয় ঘটনা ঘটে, যা দেখে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ২৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত এক উইন্ডোতে ভিন্ন তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বিশ্ব ফুটবলের তিন পরাশক্তি দল—ইংল্যান্ড পুরুষ দল, আর্জেন্টিনা পুরুষ দল এবং বার্সেলোনার নারী ফুটবল দল। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তিন ম্যাচেই বিজয়ী দলগুলো প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেয়নি এবং হুবহু একই ব্যবধানে বিশাল জয় তুলে নিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে যা এখন রূপ নিয়েছে এক অবিশ্বাস্য ‘সেভেন-আপ’ উৎসবে।
এই রেকর্ডের সূচনাটা করেছিল ইংলিশরা। উয়েফা নেশনস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। ঐতিহ্যগতভাবে ক্রোয়েশিয়া কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও সেদিন মাঠে তাদের পাত্তাই দেয়নি ইংলিশরা। হ্যারি কেন ও সতীর্থদের আক্রমণভাগের ঝড়ে দিশেহারা হয়ে ক্রোয়েশিয়া মাঠ ছেড়েছে ৭-০ গোলের বড় এক লজ্জাজনক হার নিয়ে।
ইংল্যান্ডের সেই গোল উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন সকালে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ভোরে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসিদের উত্তরসূরিরা বুর্কিনা ফাসোর রক্ষণভাগকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। চারপাশ থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণে বুরকিনা ফাসোর জাল কাঁপিয়ে তারাও তুলে নেয় ঠিক সাত গোলের এক দারুণ জয়।
এই দুই দলের জয়ের রেশ না কাটতেই রোববারের রাতে ইউরোপিয়ান ফুটবলে আরও একবার সাতের মারকাটারি রূপ দেখল বিশ্ব। স্প্যানিশ লিগের হাই-ভোল্টেজ ক্লাসিকো ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের নারী দলের মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা নারী দল। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কাতালান নারীরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের জালে এক হালি তো বটেই, মোট সাতটি গোল বল জড়িয়ে নিশ্চিত করেছে একক আধিপত্য। ফলে রিয়াল মাদ্রিদের মেয়েরাও মাঠ ছেড়েছে সেই একই ৭-০ গোলের ব্যবধানের হতাশায়।
২৪ ঘণ্টার এই ফুটবল ঝড়ে তিন ম্যাচ মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে মোট ২১টি বল জড়িয়েছে বিজয়ী দলগুলো। সবচেয়ে বড় এবং রোমাঞ্চকর ব্যাপার হলো, এই তিন ম্যাচের একটিতেও পরাজিত দলগুলো সান্ত্বনার একটি গোলও করতে পারেনি; অর্থাৎ তিন দলেরই জয় এসেছে গোলশূন্য ব্যবধানে ক্লিন শিট রেখে। ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে একদিনে এমন অবিশ্বাস্য ও নিখুঁত কাকতালীয় ঘটনা খুব কমই দেখা যায়, যা নিয়ে এখন মেতে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।
সান নিউজ / রাজীব
