ঢাকার আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে আশুলিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় আশুলিয়া থানা পুলিশ মাদকবিরোধী এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন আশুলিয়া থানার এসআই (নিঃ) মো. জুয়েল রানা। তাঁর সঙ্গে পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা ছিলেন।
পুলিশ জানায়, ১২ আগস্ট রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানাধীন পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি হোমগার্ডেন এলাকার ফাল্গুনি হাউজিংয়ের ৯ তলা ভবনের ২২৩৫ নম্বর বাসার সামনের গলি সড়কে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় মো. নুরুজ্জামান মাঝি (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি বরিশালের গৌরনদী থানার কটকস্থল এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তাঁর কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানায় নেওয়া হয়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আশুলিয়া থানার মামলা নম্বর ৭১, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬, দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের পুরাতন ইপিজেডের বিপরীতে হাশেম প্লাজার সামনে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
বাইপাইল-জিরানী সড়কের পূর্ব পাশে পরিচালিত ওই অভিযানে মো. মাসুদ ওরফে রানা (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভোলা সদর এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, মাসুদের কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের ওজন প্রায় ১ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৩ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আশুলিয়া থানার মামলা নম্বর ৭২, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬, দায়ের করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস দমন এবং সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ আশুলিয়া গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
