রাজধানীর ১০০ ফিট সংলগ্ন কোর্টসাইডে আয়োজিত পাকিস্তানি সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের কনসার্ট ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেট’-এর বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ থাকলেও কনসার্টের দিন পরিস্থিতি রীতিমতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ভেন্যু সংক্রান্ত প্রস্তুতির অভাব, দর্শকদের জন্য ন্যূনতম সুবিধার ঘাটতি এবং নিরাপত্তার চরম অবনতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার দর্শক। সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে অনেকেই এই আয়োজনকে চরম বিশৃঙ্খল আখ্যা দিয়ে ‘গরুর খোঁয়াড়’ বা ‘মাছের বাজারে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
দর্শকদের অভিযোগ, টিকিটের চড়া মূল্যের বিপরীতে ন্যূনতম পরিষেবা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে আয়োজকেরা। ১১ হাজার টাকা মূল্যের ভিআইপি টিকিটের দর্শকদের বসার জন্য দেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত সাধারণ মানের চেয়ার। অন্যদিকে আড়াই হাজার টাকার টিকিট কাটা দর্শকদের নাকি এমন জায়গায় দাঁড় করানো হয়েছিল, যেখান থেকে মঞ্চের বদলে শুধু গাছপালা দেখা যাচ্ছিল।
এছাড়াও বৃষ্টির কারণে ভেন্যুর কংক্রিটের মেঝে সম্পূর্ণ ভিজে যাওয়ায় দর্শকদের বসার কোনো উপায় ছিল না, ফলে বাধ্য হয়ে পুরোটা সময় তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। কনসার্টের মাত্র এক দিন আগে আবহাওয়ার অজুহাতে মঞ্চ পরিবর্তন করা হলেও বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। বড় ব্যাগ নিষিদ্ধ থাকায় রেইনকোট সাথে রাখা ও বহন করা নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েন দর্শকরা।
নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে আয়োজক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি সার্ভিস। কনসার্ট চলাকালীন একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে যায় এবং পেছনের ‘দুরি’ জোন থেকে অসংখ্য দর্শক সামনের ‘আদাত’ জোনে ঢুকে পড়ে। এছাড়াও একটি মাত্র প্রবেশদ্বার থাকায় গেটে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয় এবং দর্শকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রচণ্ড ভিড় ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ছোট শিশুদের শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দর্শকদের ঘাড়ধাক্কা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।
আয়োজকদের দ্বিমুখী নীতি নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন দর্শকেরা। সাধারণ দর্শকদের জন্য ভেন্যুতে বড় ব্যাগ, ছাতা বা সেলফি স্টিক নেওয়ায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, আয়োজক ও তাদের পরিচিতরা অবাধে ভেপ এবং সিগারেট নিয়ে প্রবেশ করেছেন। এত অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মেইন স্টেজ ইনকর্পোরেটের আর কখনোই কোনো ইভেন্ট আয়োজন করা উচিত নয়। ২২ হাজার টাকা খরচ করে এমন জঘন্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে, তা দর্শকেরা কল্পনাও করতে পারেননি।
এর আগে কনসার্টের প্রস্তুতি পর্বেও আয়োজকদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া, ঘন ঘন সময় পরিবর্তন এবং শেষ মুহূর্তে রেইনকোট আনার উদ্ভট নির্দেশনায় আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্মকর্তা আনন্দ চৌধুরীর বিরুদ্ধে পূর্বেও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকার বিষয়টি এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শ্রোতাদের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আয়োজকপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের সাড়া মেলেনি।
সবকিছু ছাপিয়ে আতিফ আসলাম যথাসময়ে গান শুরু করে দর্শকদের ধরে রাখার চেষ্টা করলেও, আয়োজকদের এমন চরম অব্যবস্থাপনা দর্শকদের কাছে এই কনসার্টকে একটি স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।
সান নিউজ/ হুমায়রা
