অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রথম বহর। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এবার শুধু অংশগ্রহণ নয়, নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে স্মরণীয় কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে চায় টাইগাররা।
দলের দ্বিতীয় বহরও রোববার রাতে দেশ ছেড়েছে। সেই দলে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনসহ আট সদস্য। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
‘আগে লক্ষ্য ছিল টিকে থাকা, এখন লক্ষ্য ভালো করা’
অস্ট্রেলিয়া সফরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, দুই যুগ আগেও অস্ট্রেলিয়া সফর কঠিন ছিল, এখনও তাই। তবে সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অবস্থান বদলেছে, বদলেছে দলের লক্ষ্যও।
তিনি বলেন, আগের সময়ে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেদের টিকিয়ে রাখা। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ দল শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নয়, বরং ভালো পারফরম্যান্স ও ইতিবাচক ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চায়।
লিটনের ফেরা বাড়িয়েছে ব্যাটিং শক্তি
দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ইনজুরি ও অনুপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধান নির্বাচক। তিনি জানান, নিয়মিত তিন ক্রিকেটার—নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও লিটন দাস—দলের বাইরে ছিলেন।
এর মধ্যে লিটন দাসের দলে ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। নাহিদ রানাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও শরিফুল ইসলাম ফিরলে সেটি দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হবে বলে জানান বাশার।
তার মতে, লিটনের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অর্জনের লক্ষ্য ক্রিকেটারদের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে দলের মানসিকতা নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা রয়েছে। সবাই এমন কিছু করতে চায়, যা তাদের ক্যারিয়ারে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে কাজটা সহজ হবে না। তবে কঠিন চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারলে সেটি ক্রিকেটারদের জন্য বড় অর্জন হয়ে থাকবে।
কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত টাইগাররা
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচকের মতে, দলের সবাই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখছে দল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ক্রিকেটাররা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এই সফর বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে দুই টেস্টের এই সিরিজ তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়; বরং নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ।
