গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা, সোনারায় ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থল ঐতিহ্যবাহী গান্দার বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিজেদের জমি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করায় বিলের পানি নিষ্কাশনের পথের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পানি চলাচলের মুখ বন্ধ করে অনেকে নিজেদের জমি নিজেদের মতো করে উঁচু করছেন। এতে করে পানি প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
বিলের সংযোগ খাল ও নালাগুলোর মুখে উঁচু মাটি ভরাট করার কারণে তিন ইউনিয়নের শত শত একর ফসলি জমি এখন জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিলের পানি উপচে আশপাশের হাজার হাজার একর ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এমন জলাবদ্ধতায় কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ধানসহ অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম প্রি-ক্যাডেট স্কুলের গান্দার বিলের ওপর ব্রিজ থেকে উত্তর-পশ্চিমে বিলে পানি চলাচলের পথে নুরউন্নবী মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার জমির চারপাশে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি ভরাট করে পাড় তৈরি করছেন। এতে করে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
তবে তার দাবি, এটি পানি চলাচলের প্রধান মুখ নয়। অন্য পথ দিয়ে পানি প্রবাহিত হতো। কিন্তু সবাই নিজেদের মতো করে তাদের জমি উঁচু করার কারণে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তার জমি দিয়ে পানি যাওয়ার কারণে ইতোমধ্যে জমিতে অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জমি রক্ষার জন্য মাটি দিয়ে পাড় তৈরি করা হয়েছে। তবে পানি চলাচলের বিকল্প পথ করে দেওয়া হয়েছে।
আসাদুল মিয়া নামে আরও একজন ব্যক্তি পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়াও অনেক ব্যক্তি তাদের নিজেদের জমি নিজেদের মতো করে উঁচু করার কারণেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মানুষের দাবি, বিলের উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণখননের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত তথ্য দেন। দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
সান নিউজ/ জামান
