সিরাজগঞ্জে ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধার করা জমিতে বাঁধ নির্মাণ ও বালু ভরাট করেছিল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে জমিটি পড়ে রয়েছে। এরই সুযোগে ওই এলাকায় গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে এখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং পরে ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রায় ১ হাজার ১০০ একর জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় আসে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বড় বাবু আকবর হোসেন জানান, বর্তমানে ওই এলাকায় কী করার পরিকল্পনা রয়েছে, তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি, গাছপালা ও ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার চাহিদা পাঠানো হয়েছিল। তবে এর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। কয়েক দফায় ব্যয় বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৩৮ কোটি টাকা করা হয়। ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পুরো প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে (জিওবি) বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্প এলাকা দখল প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন ও বাঁধ নির্মাণের কাজ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রকল্পের জমি জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিছুদিন আগে এলাকায় গিয়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দেখা গেছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় অবৈধ বসতি দ্রুত বাড়ছে। এসব স্থাপনায় বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেসকো থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় নতুন করে বসতি গড়ে ওঠার প্রবণতা আরও বেড়েছে। এতে প্রস্তাবিত ইপিজেডের জমি দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
