বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সতীর্থদের জন্য বিশেষ উপহার দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সেই উপহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসির বান্ধবীর একটি ভিডিওর মাধ্যমে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের কয়েকদিন আগে আর্জেন্টাইন স্কোয়াডের সতীর্থদের জন্য এই বিশেষ উপহার দেন মেসি। সম্প্রতি এক ভিডিওতে মার্কোস সেনেসির নাম লেখা কাস্টমাইজড ব্যাগ থেকে উপহার সামগ্রী বের করে দেখান তার প্রেমিকা কেলসি-রোজ বোয়ার্স।
কেলসি-রোজ বোয়ার্স নিজেও ইংলিশ ক্লাব বোর্নমাউথের একজন ডিফেন্ডার। সেনেসির সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই প্রকাশ্যে ছিল। মেসির কাছ থেকে পাওয়া সেনেসির উপহারের বিষয়টিও তার মাধ্যমেই সামনে আসে।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপজয়ী দলের সব সতীর্থকেই একই ধরনের উপহার দিয়েছিলেন মেসি।
বাদামি রঙের ওই ব্যাগে ছিল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) লোগো এবং ওপরে লেখা ছিল ‘মার্কোস সেনেসি’। ব্যাগের ভেতরের জিনিস দেখিয়ে বোয়ার্স বলেন, “আমি আপনাদের দারুণ কিছু দেখাতে চাই, যা আপনাদের ভালো লাগবে। কাস্টম করা এই ব্যাগটি মার্কোস চ্যাম্পিয়নশিপের পর নিয়ে এসেছে। এটি তার সতীর্থ মেসির কাছ থেকে পাওয়া উপহার, যা দলের সবাই পেয়েছে।”
ব্যাগের ভেতরে ছিল সোনালী রঙের একটি থার্মাল ফ্লাস্ক (স্ট্যানলি থার্মোস), যা মেসির নিজস্ব ব্রান্ডের তৈরি। এরসঙ্গে মিলিয়ে একটি কাপ এবং চামচ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী চা পাতার (ইয়ার্বা) প্যাকেজ ছিল ওই ব্যাগে। উপহারগুলো দেখাতে দেখাতে বোয়ার্স বলতে থাকেন, ‘মার্কোস এসব আমাকে নিরাপদে রাখতে দিয়েছিল এবং বলেছিল মায়ামিতে গিয়ে যেন ফেরত দিই।’
ওই ভিডিও বেশ দ্রুতগতিতেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলের সতীর্থদের দেওয়া মেসির উপহারের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নেটিজেনরা। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের সময়ে জাতীয় দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের একটি বিশেষ দিক সবার সামনে উঠে আসে। দলের প্রতিটি সতীর্থের জন্য মেসির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার, যা ছিল দলটির অন্যতম প্রধান একটি রীতির প্রতীক।
প্রসঙ্গত, টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ধারাবাহিক ও একের পর এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ন্যূনতম লড়াইও দেখাতে পারেনি মেসি-আলভারেজরা। নিয়ন্ত্রিত ও পজেশন নির্ভর ফুটবলে প্রতিপক্ষকে প্রায় পুরো সময় আটকে রেখে ১০৬ মিনিটে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
