রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে ‘টেক্সাস ড্রেসেস গার্মেন্টস’ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে তারা এই অবরোধ শুরু করেন। দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ থাকায় রামপুরা থেকে মালিবাগ অভিমুখে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।
অবরোধকারী শ্রমিকদের একজন অনিমা জানান, তারা ঈদের ছুটিতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে দেখেন কারখানা বন্ধ এবং ১৪৭ জন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, কোনো আগাম তথ্য বা নোটিশ ছাড়াই মালিকপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা ঈদের বোনাস পেলেও গত মাসের বেতন পাননি। বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে ফ্যাক্টরির সামনে এলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। তাদের কাছে এর ভিডিও ফুটেজ আছে বলেও তারা দাবি করেন।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত রামপুরা থানার এসআই সাইফুল জানান, গত তিন দিন ধরেই মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় মালিকপক্ষের সাথে নেগোসিয়েশন বা সমঝোতার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান আসেনি।
এসআই সাইফুল আরও বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে যে, শ্রমিকরা ভেতরে প্রবেশ করলে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি বা ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে। তাই কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের ভেতরে যেতে দিচ্ছি না। শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য তারা শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ ব্যাপারে ডিএমপির ডিসি হারুন অর রশীদ জানান, ১৪৭ জন শ্রমিকের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দুপুরে রামপুরায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা শ্রম অধিদপ্তরে যাচ্ছে। সেখানে আশা করি বিষয়টি সমাধান হবে। বর্তমানে রামপুরা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আমার বাঙলা/আরএ
