শাড়িকাণ্ড ঘিরে আবারও আলোচনায় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি নিয়ে দায়ের করা মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন মামলা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহারে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই মামলার বাদী সানায়া চৌধুরীর সঙ্গে তানজিন তিশার একটি ফোনালাপ প্রকাশ্যে এসেছে। এ নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
ফাঁস হওয়া ওই ফোনালাপে শাড়ি ফেরত দেওয়া, সেটি কোথায় রয়েছে এবং এ নিয়ে আগে কী কথা হয়েছিল, তা নিয়ে দুজনকে কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তানজিন তিশাকে সানায়ার উদ্দেশে হুমকিমূলক বক্তব্য দিতেও শোনা যায়।
পাঠকদের জন্য প্রকাশ্যে আসা অডিও রেকর্ডের কথোপকথন নিচে তুলে ধরা হলো।
তানজিন তিশা: সানায়া আপু, তোমার কোন শাড়ির জন্য আমাকে ফোন দিচ্ছে মানুষজন?
সানায়া চৌধুরী: না, শুধুমাত্র আমার জুটনের ফোন দেওয়ার কথা তোমাকে।
তানজিন তিশা: আচ্ছা, দুইজন দিয়েছে অলরেডি। কে কে ফোন করছে? কোন শাড়ি, বলো তো?
সানায়া চৌধুরী: ওই সাদা রঙের শাড়িটা, যেটা মনে হয় গত বছর চট্টগ্রামে পরার জন্য নিয়েছিলে।
তানজিন তিশা: কোনটা বলো তো?
সানায়া চৌধুরী: সাদা শাড়ি, সাদা ব্লাউজ আর সাদা পেটিকোট।
তানজিন তিশা: তোমাকে পাঠানো হয়নি?
সানায়া চৌধুরী: না, ওটা তুমি এখনো পাঠাওনি।
তানজিন তিশা: আমি পাঠাইনি?
সানায়া চৌধুরী: না, না।
তানজিন তিশা: আচ্ছা ঠিক আছে, আমি চেক করে দেখব। কোথায় আছে, আমার মনে পড়ছে না। যদি বাসায় থাকে, তাহলে দেখব। কারণ শাড়িটা কোথায় আছে, আমি জানি না। তবে আমার মনে হয়, সানায়া আপু…
সানায়া চৌধুরী: না, তুমি ওটা পরেছ। শোনো, তুমি ওটা পরেছ।
তানজিন তিশা: আমি পরেছি, এরপর আর ধরেও দেখিনি। শোনো, শুনতে পাচ্ছ?
সানায়া চৌধুরী: হ্যাঁ, বলো।
তানজিন তিশা: আমি পরেছি, এরপর তোমার শাড়িটা আর ধরেও দেখিনি। তাহলে এখন যদি না পরি, আমার কাছে রেখে তো কোনো লাভ নেই।
সানায়া চৌধুরী: আচ্ছা, সমস্যা নেই। তুমি বাসায় খুঁজে দেখো।
তানজিন তিশা: আপু, আমি ওটা খুঁজে দেখব।
সানায়া চৌধুরী: খুঁজে দেখে তোমার সুবিধামতো সময়ে আমাকে জানিয়ে দিও।
এরপর কথোপকথনের সুর বদলে যায়। শাড়ি নিয়ে মামলা ও যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এনে সানায়াকে উদ্দেশ করে তানজিন তিশা বলেন, “আমার সঙ্গে বেশি চালাকি করবা না।” তিনি আরও বলেন, সানায়া যদি তাঁকে ব্যবহার করে আলোচনায় আসতে চান, তাহলে তিনিও তাঁকে আলোচনায় আনতে পারেন।
জবাবে সানায়া কথোপকথনকে অপ্রাসঙ্গিক দিকে না নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি দাবি করেন, শাড়িটি ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেও একাধিকবার কথা বলেছেন এবং এ-সংক্রান্ত বার্তাও তাঁর কাছে রয়েছে।
একপর্যায়ে তানজিন তিশাকে বলতে শোনা যায়, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হলে তিনিও পাল্টা ব্যবস্থা নেবেন। অন্যদিকে সানায়া বলেন, তাঁর সঙ্গে তানজিনের ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই; তিনি শুধু নিজের শাড়িটি ফেরত চান।
কথোপকথনের শেষ দিকে তানজিন তিশাকে আরও আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, সানায়ার পেছনে লাগলে তিনি তাঁকে ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে তাঁকে নিয়ে ‘ডিভি’ নিয়ে বসবেন বলেও মন্তব্য করেন।
প্রকাশ্যে আসা এই ফোনালাপকে কেন্দ্র করে শাড়িকাণ্ড নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে অডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সান নিউজ/ রাব্বি
