যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে অপসারণের পক্ষে ভোট দিয়েছে সদস্যদেশগুলোর পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ’। তবে করিম খানের আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছিলেন করিম খান নিজেই, যা পরে আইসিসির বিচারকেরা জারি করেন। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মুখে পড়ে আদালত। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাকে অপসারণের ভোট হয়।
করিম খানের আইনি দলের প্রধান তায়াব আলীর দাবি, জাতিসংঘের তদারকি সংস্থা ওআইওএস-এর তদন্তে কোনো অসদাচরণের প্রমাণ মেলেনি এবং একটি জুডিশিয়াল প্যানেলও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ব্যক্তি করিম খানের বাইরেও বিস্তৃত হবে এবং আদালতের স্বাধীনতা রক্ষায় নির্বাচিত কর্মকর্তাদের এমন রাজনৈতিক বা আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ অপসারণ থেকে সুরক্ষিত রাখা দরকার।
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির পর ট্রাম্প প্রশাসন করিম খানসহ আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। অভিযোগ ওঠার প্রায় দুই বছর পর এই অপসারণ অনুমোদিত হলো। ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান গত জুনে নিজেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন, তার আগে একটি তদারকি প্যানেল তাকে ‘গুরুতর অসদাচরণে’ দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এখন তার দপ্তরের দায়িত্বে আছেন উপপ্রধান কৌঁসুলি নজহাত শামিন খান ও মামে মান্দিয়ায়ে নিয়াং।
তায়াব আলীর অভিযোগ, ন্যায্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এবং স্বাধীন বিচারকদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই এই অপসারণ করা হয়েছে। অভিযোগকারী নারী, যাকে শুধু ‘সারাহ’ নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে, সিএনএনকে বলেছেন যে সময়ের সঙ্গে করিম খানের আচরণ ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, এবং তিনি ঘুমের ভান করে থাকা অবস্থায় শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ করেন। করিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক পররাষ্ট্রনীতি প্রধান জোসেপ বোরেল এক নিবন্ধে মন্তব্য করেছিলেন যে এই মামলা আইসিসির বিরুদ্ধে বৃহত্তর আক্রমণের অংশ। করিম খানের অপসারণের পর নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে, তবে সে ভোট আগামী বছরের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানায় এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তা প্রত্যাহারের ক্ষমতা কেবল আইসিসির বিচারকদেরই আছে। তবে এই ঘটনার পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আইসিসির তদন্তের সমালোচনায় নতুন করে সরব হয়েছেন।
সান নিউজ/ তালহা
