মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সড়ক জুবিলী রোডে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই চলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ না করে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগে পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার জুবিলী রোডে ড্রেন নির্মাণের জন্য সড়কের বিভিন্ন অংশ খনন করা হয়েছে। কোথাও ড্রেনের নির্মাণকাজ চলছে, কোথাও নির্মাণসামগ্রী ও মাটি জমিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই ড্রেনের পাশে ও নির্মাণকাজের আওতায় থাকা কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি দৃশ্যমান রয়েছে। খুঁটিগুলো যথাস্থানে রেখেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকা থেকে ডিসি অফিস সংলগ্ন ২৩শ ৭৫ মিটার ড্রেন ৮ কোটি ১৮ টাকা ও ৭ কোটি ৬০ টাকা ২ হাজার ৪০ মিটার কিলোমিটার সড়কে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ অধিক টাকা ব্যয়ে আরসিসি সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজটি করছেন মের্সাস মুমু এন্টারপ্রাইজ। এ সড়কটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৮৪টি অধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ বা স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত না করেই কীভাবে ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলো? পরবর্তী সময়ে এসব খুঁটি সরানোর প্রয়োজন হলে নির্মিত ড্রেন ভাঙা বা পুনরায় কাজ করার পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ ধরনের উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় থাকা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, উন্নয়নকাজের শুরুতেই বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সেবা সংস্থার অবকাঠামোর অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় একই জায়গায় বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থের অপচয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।
এর আগে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কের উন্নয়নকাজে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের বিষয়টি সামনে আসে। পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে প্রায় ৮৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুঁটি অপসারণে বিলম্বের কারণে উন্নয়নকাজেও ধীরগতি দেখা দিয়েছিল।
এ অবস্থায় জুবিলী রোডে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ড্রেন নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, খুঁটিগুলো পরবর্তী সময়ে কীভাবে স্থানান্তর করা হবে এবং এতে নির্মিত ড্রেনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান স্থানীয়রা।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা মো. সারওয়ার টিটু এ বিষয়ে বলেন, কাজের উদ্দেশ্য জনদুর্ভোগ কমানো এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানো। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে সেই উন্নয়নকাজই যেন ভবিষ্যতে নতুন ভোগান্তির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মুমু এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী জাহিদ শাহারি মেহেদী বলেন, সময় মতো আমাদের বুঝিয়ে দেয়ার লক্ষে কাজ চলছে। আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য একাধিক বার যোগাযোগ করেছি। চলমান কাজে পৌরকতৃপক্ষ সাথে ১০টি খুঁটি সরানোর চুক্তি হয়েছে আমাদের। এছাড়াও এ সড়কটিতে ৫ ফিট আরসিসি সড়ক প্রস্হ হচ্ছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, টেন্ডারে অনুযায়ী ১০ টি খুঁটি সরানোর বিষয় উল্লেখ আছে, তবে বাস্তবতার পেক্ষিতে ৪০ থেকে ৪৫ টি খুঁটি সরানো প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিধায় জনস্বার্থ আরও সরানো ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে। যদি দুই একটি খুঁটি ড্রেন লাইনে পরলে সার্বিক দিক বিবেচনায় সমস্যা হবে না।
সাননিউজ/বান্না
