সিলেট টেস্টের এক ঝলক :
|
হাইলাইটসের বিষয়
|
খেলার বিবরণ ও পরিসংখ্যান
|
|
দিনের শেষ সংগ্রহ
|
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২৩৫/৪ (৭০ ওভার শেষে, আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা সমাপ্ত)
|
|
ব্যাটিং পারফরম্যান্স
|
• আমির জাঙ্গু: ১১১* রান (অপরাজিত, সেঞ্চুরিটি ছক্কা হাঁকিয়ে পূর্ণ)
|
|
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
|
শুরুতে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধসের মুখে পড়ার পর, জাঙ্গু ও উইকহামের ১২৭ রানের দুর্দান্ত জুটি
|
|
বাংলাদেশের সফল বোলার
|
• হাসান মাহমুদ: ২ উইকেট
|
|
বিশেষ ঘটনা ও বাধা
|
দিনের শেষ সেশনে আলোকস্বল্পতার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা কম খেলা এবং চা বিরতির পর নাটকীয় ছক্কায় জাঙ্গুর সেঞ্চুরি পূর্ণ
|
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনটি পুরোপুরি নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের শুরুতে টাইগার বোলারদের আগুনঝরা পেস আক্রমণে মাত্র ২৭ রানেই টুঁটি চেপে ধরেছিল স্বাগতিকরা। শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে মাত্র তিন উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে ক্যারিবিয়ানরা।
আলো স্বল্পতার কারণে এদিন নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা আগেই খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির সুবাস ছড়ানো আমির জাঙ্গুর বীরত্বপূর্ণ সেঞ্চুরিতে এখন বড় সংগ্রহের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে সফরকারী দল।
শুরুতেই ধস ও তাসকিন-হাসানের তাণ্ডব :
টস জিতে উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও ম্যাচের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি ক্যারিবীয়দের জন্য। বল হাতে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন হাসান মাহমুদ। স্লিপে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ওপেনার, কিন্তু দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে সেই ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি ফিল্ডার। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে দুর্দান্ত এক গতি ও সুইংয়ে পরাস্ত করে ব্রেন্ডন কিংকে বোল্ড করেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
ঠিক পরের ওভারে আঘাত হানেন হাসান মাহমুদও; তার নিখুঁত স্কিড করা বলটি বুঝতে না পেরে সাজঘরে ফেরেন কেভম হজ। এরপর নবম ওভারে উইকেটকিপার ব্যাটার জশুয়া ডি সিলভাকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার জোর ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২৭ রানের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ক্যারিবীয় শিবির তখন রীতিমতো কাঁপছিল।
জাঙ্গু ও উইকহামের ঐতিহাসিক প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ানো :
প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে উইকেটে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহাম। বাংলাদেশি বোলারদের শত চেষ্টা আর আঁটসাঁট বোলিংকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই জুটি গড়ে তোলে ১২৭ রানের অবিস্মরণীয় এক প্রতিরোধ। প্রথম সেশনটা কোনো উইকেট না হারিয়েই পার করে দেয় সফরকারীরা।
লাঞ্চের পরেও তাদের এই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত কেভিন উইকহামকে (৬১ রান, ১৪৫ বল) বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। উইকহাম ফিরে গেলেও স্কোরবোর্ডের গতি কমতে দেননি ব্যাটাররা। চা বিরতির আগেই দলীয় সংগ্রহ ১৮০ রান পার করে ক্যারিবীয়রা।
নাটকীয় ছক্কায় জাঙ্গুর মহাকাব্যিক সেঞ্চুরি ও আলোকস্বল্পতার ইতি :
চা বিরতির পর উইকেটে নেমে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় এক ইনিংস উপহার দেন আমির জাঙ্গু। চরম চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করে মাত্র ১৪৯ বলেই নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন তিনি।
আর এই তিন অঙ্কে পৌঁছানোর মুহূর্তটি ছিল দারুণ নাটকীয়—স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলে ছক্কার সাহায্যে সেঞ্চুরি উদ্যাপন করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
দিনের শেষ সেশনে খেলা হয়েছে মোটে ১৫ ওভার। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে একবার আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়। আধা ঘণ্টা বিরতির পর পুনরায় খেলা গড়ালেও মাত্র ৫ ওভার মাঠে গড়ায়। এর পরই আম্পায়াররা আলোর স্বল্পতার জন্য দিনের খেলা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
শেষ সেশনে একটি উইকেটও হারাতে না দিয়ে আরও ৫৫ রান যোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম দিন শেষে ১১১ রানের অনবদ্য ও লড়াকু ইনিংস খেলে অপরাজিত রয়েছেন আমির জাঙ্গু, আর তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়ে ২৬ রান নিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন জাস্টিন গ্রিভস। বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম দিনে দুটি করে উইকেট শিকার করে সফল বোলার হিসেবে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ।
সান নিউজ / রাজীব
