নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীদের একটি অংশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা।
এর আগে সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে সড়কে অবস্থান নেন তারা।
নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে রোববারের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ ব্যাচে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। ভেরিফিকেশনের পর তাদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তবে আন্দোলনকারীদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ সংখ্যা ২ হাজার ৫০০-এর বেশি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, সুপারিশ পাওয়ার পর প্রায় আট মাস বেকার থাকার পর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের একটি অংশকে নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত নন—এমন যোগ্য প্রার্থীদের সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান তারা।
কেন এত সংখ্যক প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কারণ জানানো হয়নি বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও করেন তারা।
তাদের দাবি, নতুন করে ভেরিফিকেশনের নামে সময়ক্ষেপণ না করে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া এবং ১ অক্টোবর সব যোগ্য প্রার্থীকে একসঙ্গে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্যা সমাধানে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ের উদ্দেশে গেছে।
সান নিউজ/ রাব্বি
