ঢালিউড অভিনেতা জায়েদ খান শুক্রবার (২২ মে) রাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছেন। পোস্টে শেয়ার করা পোস্টারে দেখা যায়, তার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন জোহরান মামদানি।
পোস্টটি শেয়ার করে জায়েদ লিখেন, ‘আসলে কি হচ্ছে এটা? মেয়র জোহরান মামদানি আমার কাঁধে হাত রাখছে? চমৎকার!’
এরপর সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দিনও একই পোস্টার ফেসবুকে প্রকাশ করে লিখেন, ‘সবাই জানেন, কে বড় তারকা…এবার দেখার পালা কে বড় অভিনেতা…।’
সেই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। অনেকেই জানতে চান, আদৌ কি কোনো কাজের সূত্রে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে দুজনকে, নাকি এটি কেবল প্রচারণার অংশ?
অবশেষে রহস্যের জট খুলেছেন জায়েদ খান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার সঙ্গে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটির নাম ‘ইমিগ্র্যান্ট ডায়েরিজ এপিসোড-২’। জন কবির ও সাদ আল আমীন পরিচালিত এই প্রজেক্টটি মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত। এই সিরিজের প্রথম পর্ব গত মার্চে মুক্তি পায়। দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পাবে ২৭ মে বাংলাদেশ সময় রাত নয়টায় ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’-এর ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে।
জায়েদ খান আরও বলেন, ‘জোহরান মামদানি সরাসরি আমার সঙ্গে এই শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা শুধু আমার ব্যক্তিগত গর্ব নয়, আমি মনে করি, এটি বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকারও গর্ব।’
মেয়রকে প্রকল্পটিতে যুক্ত করার পেছনের গল্পও জানিয়েছেন অভিনেতা। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ঠিকানা’র রুহিন হোসেন ও তার সহধর্মিণী আনুভা শাহীন হোসেন প্রথমে মামদানির কাছে ই-মেইল করেন। সেই সঙ্গে জায়েদ খানের পরিচয় ও প্রজেক্টের বিস্তারিত তথ্যও পাঠানো হয়। কিছুদিন অপেক্ষার পর মেয়রের কার্যালয় থেকে সময় দেওয়া হলে নির্ধারিত দিনেই শুটিং করা হয়।
জায়েদের মতে, বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী মেয়র হওয়া সত্ত্বেও জোহরান মামদানি শুটিং সেটে ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক।
জায়েদ খান আরও বলেন, ‘অভিনয়ের সময় তিনি বারবার পরিচালকের নির্দেশনা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন। কাজটি করতে গিয়ে মনে হয়েছে, তিনি পুরো বিষয়টি উপভোগ করেছেন।’
পোস্টার প্রকাশের পর যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তার উত্তর এখন স্পষ্ট, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ বা সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়।
সাননিউজ/আরএ
