২০১৩ সালের ৬ মার্চ,নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে পাবলিক লাইব্রেরীতে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী।দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর চারারগোপ খাল থেকে ত্বকীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর কেটে গেছে তেরটি বছর। কিন্ত বিচারের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি।
তের বছরেও মামলার অভিযোগপত্র না দেওয়াকে বিচারব্যবস্থার দেউলিয়াপনার উদাহরণ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বী।
তিনি বলেন,শেখ হাসিনা জোর করে ১১ বছর ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর বিদায়ের দুই বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।সরকার বদলালেও বিচার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন হয়নি।একটা সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নিরবে-নিভৃতে কাঁদতে পারে না।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও মামলার বিন্দুমাত্র অগ্রগতি হয়নি।বর্তমান সরকারের আমলে এই মামলার কতটুকু কি হবে তা বুঝা যাচ্ছে না।
শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার ১৬১ মাস উপলক্ষে প্রতি মাসের ন্যায় আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে রফিউর রাব্বী এ কথা বলেন।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ত্বকী হত্যার প্রতিবাদে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসুচী পালন করে আসছে।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর,ইউসুফ হোসেন সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১।
আদালতে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেনের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দীতে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণ ও হত্যার কথা বের হয়ে আসে।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশেই আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
