ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে শরীরে রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন খাবার রাখা উচিত এবং কোনগুলো সীমিত বা পরিহার করা প্রয়োজন, তা জানা জরুরি।
যেসব খাবার বেশি খাওয়া উপকারী
ডাল ও ডালজাতীয় খাদ্য:
মসুর, মুগ, ছোলা এবং বিভিন্ন ধরনের বিনস প্রোটিন ও খাদ্যআঁশের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে।
আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি:
পালং শাক, করলা, লাউ, ঝিঙে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা ও টমেটোর মতো শাকসবজিতে আঁশ বেশি থাকায় এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার:
সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল, ব্রাউন রাইস, ওটস এবং আটার রুটি বেছে নেওয়া ভালো। এসব খাবার ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পায় না।
মাছ ও চর্বিহীন প্রোটিন:
দেশি মাছ, সামুদ্রিক মাছ, মুরগির বুকের মাংস, ডিমের সাদা অংশ এবং পরিমিত পরিমাণে ডাল শরীরের জন্য উপকারী প্রোটিনের উৎস।
কম চিনিযুক্ত ফল:
পেয়ারা, আপেল, কমলা, নাশপাতি, জাম এবং বেরিজাতীয় ফল পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। ফলের রসের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।
স্বাস্থ্যকর চর্বি:
কাঠবাদাম, আখরোট, অন্যান্য বাদাম, তিসি বীজ এবং অলিভ অয়েল পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে।
কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দই:
চিনি ছাড়া টক দই এবং লো-ফ্যাট দুধ পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত
পরিশোধিত শর্করা:
সাদা পাউরুটি, ময়দার তৈরি খাবার, বিস্কুট, নুডলস এবং অতিরিক্ত সাদা ভাত সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মিষ্টিজাতীয় খাবার:
রসগোল্লা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, চকোলেট, আইসক্রিম এবং অতিরিক্ত চিনি মেশানো খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।
চিনিযুক্ত পানীয়:
কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংকস এবং অতিরিক্ত চিনি মেশানো ফলের জুস রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার:
সসেজ, সালামি, প্রসেসড মাংস এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
অতিরিক্ত তেল ও ঘি:
স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট বেশি রয়েছে এমন খাবার হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এসব খাবার সীমিত রাখা প্রয়োজন।
ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড:
বার্গার, পিজ্জা, ফ্রাইড চিকেন, চিপসসহ অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার কম খাওয়াই ভালো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
• প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
• একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েক দফায় খাবার গ্রহণ করুন।
• প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা অন্য কোনো শরীরচর্চা করুন।
• পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
• নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
• চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট ইতিবাচক পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সুফল এনে দিতে পারে।
আমার বাঙলা/ হুমায়রা
