টেস্ট ক্রিকেটের ২২ গজে নামার আগে কাঁধে কোনো অতিরিক্ত অদৃশ্য চাপের বোঝা টানতে নারাজ বাংলাদেশ দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগামীকালের চ্যালেঞ্জকে কোনো দুশ্চিন্তার বিষয় হিসেবে না দেখে, বরং এটিকে ক্যারিয়ারের বড় এক অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করছেন টাইগারদের টেস্ট দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত।
দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্লান্তিকর দুশ্চিন্তা মাথায় না নিয়ে, লাল বলের ফরম্যাটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দল যে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়েছে, ঠিক সেই ইতিবাচক ধারাটাই ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষেও বজায় রাখতে চান টাইগার স্কিপার ।
কালকের ম্যাচের প্রাক্কালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধিনায়ক খোলামেলা আলোচনা করেন দলের সার্বিক মানসিকতা নিয়ে। টাইগার অধিনায়ক শান্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানান যে, ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে বাড়তি কোনো মানসিক চাপ তৈরি হয়নি। বরং প্রস্তুতি পর্ব শুরুর দিন থেকেই গত কয়েক বছর ধরে খেলা টেস্ট ম্যাচগুলোর ভালো দিকগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মাঠে নেমে অতিরিক্ত কোনো জটিল বা অলৌকিক কিছু করার ফন্দি আঁটছে না দল; বরং এতদিন ধরে যে চিরচেনা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে টাইগাররা সাফল্য পেয়ে আসছে, ঠিক সেই পরীক্ষিত পথ ধরেই এগিয়ে যাওয়ার ছক কষা হয়েছে।
ক্রিকেটীয় পরিভাষায় নিজেদের সহজাত সামর্থ্যরে ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। স্কোয়াডের প্রতিটি সদস্যের ওপর বাড়তি কোনো জটিল নির্দেশনার বোঝা চাপাতে নারাজ তিনি। এর বদলে সবার কাছ থেকে সাধারণ ও মৌলিক দক্ষতার নিখুঁত বাস্তবায়ন দেখতে চান।
অত্যন্ত গুরুত্ববহ আগামীকালের ম্যাচের দ্বৈরথে কোনো অবাস্তব উচ্চাশা না রেখে, নিজেদের রুটিনমাফিক কাজগুলো যথাযথভাবে শেষ করাই মূল লক্ষ্য।
একসঙ্গে অনেক দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার বা সুদূরপ্রসারী কোনো বড় স্বপ্নের জাল বুনতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট। টাইগার অধিনায়ক শান্তর সুনির্দিষ্ট কৌশল অনুযায়ী, ম্যাচ ধরে ধরে এবং সেশন বাই সেশন পারফরম্যান্সের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি সেশনে নিজেদের সেরা ক্রিকেট উপহার দেওয়ার মানসিকতাই দলকে ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছে দেবে বলে তার বিশ্বাস।
ভবিষ্যতের কর্মপন্থা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে দলপতি আরও যোগ করেন যে, অতীতে দল যেভাবে ধাপে ধাপে উন্নতি করেছে, বর্তমান পরিকল্পনাও ঠিক একই নিয়মে সাজানো। সুদূর ভবিষ্যতে কী হবে বা বড় কোনো সমীকরণ মেলানোর কথা আপাতত ড্রেসিংরুমে ভাবা হচ্ছে না।
নির্দিষ্ট প্রতিটি ম্যাচ এবং নির্দিষ্ট প্রতিটি ঘণ্টার লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজার করে দিতে মুখিয়ে আছে পুরো দল। ছোট ছোট কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলো একে একে পূরণ করে যদি কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে আনা সম্ভব হয়, তবে সেটিই পরবর্তীতে পুরো দলের সামগ্রিক আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।
সান নিউজ / রাজীব
