বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় এসেছে ব্রাজিলের একটি স্মরণীয় ‘৭-১’ জয়। তবে এটি সেই বহুল আলোচিত ২০১৪ বিশ্বকাপের জার্মানির বিপক্ষে লজ্জার হার নয়, বরং হাইতির বিপক্ষে গোল উৎসবের এক সুখস্মৃতি।
চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে জয় দিয়ে আসর শুরু করার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের। ম্যাচে দলের ছন্দহীন পারফরম্যান্স এবং কৌশলগত দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং গ্রুপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচকে ঘিরে ফিরে এসেছে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার স্মৃতি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ওই আসরে হাইতির বিপক্ষে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছিল ব্রাজিল। সেদিন ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা। ম্যাচটিতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিলিপ্পে কৌতিনিয়ো। এছাড়া রেনাতো অগুস্তো দুটি গোল করেন। গোলের তালিকায় ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বার্বোসা ও লুকাস লিমাও।
সেই ম্যাচেও ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় দলটি। বিরতির পর আরও চার গোল যোগ করে তারা। হাইতির হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন জেমস মার্সেলিন।
মজার বিষয় হলো, সেই ম্যাচও হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে। এবারও দুই দল মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্রেই। পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি নিয়ে ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে সমর্থকদের আগ্রহ।
অন্যদিকে হাইতিও বিশ্বকাপ শুরু করেছে পরাজয় দিয়ে। স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপে চাপে রয়েছে তারা। ফলে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে স্কটল্যান্ড। মরক্কো দ্বিতীয় স্থানে এবং সমান এক পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। তাই নকআউট পর্বের পথে এগিয়ে যেতে হাইতির বিপক্ষে জয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
এখন দেখার বিষয়, অতীতের সেই ৭-১ গোলের স্মৃতি নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে কি না ব্রাজিলকে। সমর্থকরাও অপেক্ষায় রয়েছেন, দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের আসল রূপে ফিরে আসে কি না ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল দলটি।
