শারীরিক পরিশ্রমের অভাব বাড়িয়ে দিতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরচর্চার অভ্যাস না থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বয়স ৪০ পেরোলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি অনিবার্য, এমন ধারণা ঠিক নয়। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসন হতে পারে কার্যকর উপায়।
মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে অথবা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
বয়স বাড়ার পাশাপাশি শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের রুটিনে শরীরচর্চা রাখা জরুরি।
হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত হাঁটা হতে পারে সহজ একটি উপায়। এ জন্য জিমে যাওয়ার কিংবা বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন।
নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। যারা দীর্ঘদিন শরীরচর্চা করেননি, তারা প্রথমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। পরে ধীরে ধীরে সময় ও হাঁটার গতি বাড়িয়ে নিন।
পেশির শক্তি বাড়াতে করুন ব্যায়াম
শরীর সুস্থ রাখতে শুধু হাঁটাই যথেষ্ট নয়। পেশির শক্তি ধরে রাখতে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা প্রয়োজন। এ জন্য ভারী ওজন তোলার দরকার নেই। হালকা ডাম্বেল, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা নিজের শরীরের ওজন ব্যবহার করেও এসব ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে বয়স বাড়লে পেশির শক্তি ও হাড়ের ঘনত্ব কমতে পারে। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশির সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি ওজন ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
নিয়মিত যোগাসন করুন
শরীরের নমনীয়তা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে যোগাসন বেশ উপকারী। পাশাপাশি যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত যোগাসনের সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করতে পারেন। তবে যোগাসনকে হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে না দেখে শরীরচর্চার পরিপূরক হিসেবে গ্রহণ করুন।
কোন ব্যায়াম সবচেয়ে বেশি কার্যকর?
হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনের মধ্যে একটিকে সবচেয়ে কার্যকর বলা কঠিন। বরং তিন ধরনের শরীরচর্চার সমন্বয় শরীরের জন্য বেশি উপকারী। সপ্তাহে পাঁচ দিন দ্রুত হাঁটা, অন্তত দুই দিন পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এবং নিয়মিত যোগাসন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আরও যা করবেন
শুধু ব্যায়াম করলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। এর পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমিয়ে দিন।
ধূমপান ও তামাকজাতীয় পণ্য এড়িয়ে চলুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের ধরন নির্ধারণ করা উচিত। আগে থেকে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সান নিউজ/ রাব্বি
