বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে বড় স্বস্তির খবর পেয়েছে ফ্রান্স। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে এবং মিডফিল্ডার অঁরেলিয়ে চুয়ামেনি—দুজনই স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম।
আজ (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১টায় টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। ম্যাচের আগের অনুশীলনে এমবাপেকে দেখা না যাওয়ায় তার ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও দেশম সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।
ফরাসি কোচ বলেন, ‘কিলিয়ান ভালো আছে। সে অনুশীলনও করেছে। তবে তাকে পুরো ২০ মিনিটের বদলে ১০ মিনিটের ড্রিল সেশনে রাখা হয়েছিল।’ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে অ্যাঙ্কলে হালকা চোট পেয়েছিলেন এমবাপে। তবে সেটি তাকে সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে দেওয়ার মতো গুরুতর নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশম।
অন্যদিকে, চোটের কারণে গত দুই ম্যাচে বেঞ্চে থাকা অঁরেলিয়ে চুয়ামেনিও মাঠে নামতে প্রস্তুত। যদিও তিনি এখনও শতভাগ ফিট নন, তবুও তাকে দলে পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ফরাসি কোচ।
দেশম বলেন, ‘গত ম্যাচে তাকে খেলানো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন সে আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে, যদিও এখনও পুরোপুরি ফিট বলা যাবে না। দুই সপ্তাহ আগে সে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে খেলতে পারবে।’
চুয়ামেনির ফেরায় ফ্রান্সের মিডফিল্ড আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্পেনের বল দখলভিত্তিক ফুটবল এবং উচ্চ প্রেসিং সামলাতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্পেনের খেলার ধরন নিয়ে দেশম বলেন, ‘স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে খুবই দক্ষ। আমাদেরও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার সামর্থ্য আছে। পাশাপাশি আমরা বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণেও ভালো। ম্যাচের গতিপ্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।’
এবারের বিশ্বকাপে এমবাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। সেমিফাইনালে তার উপস্থিতি ফ্রান্সের আক্রমণভাগে বড় শক্তি যোগ করবে।
সাম্প্রতিক অতীতে স্পেনের বিপক্ষে সুখকর স্মৃতি নেই ফ্রান্সের। ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ উয়েফা নেশন্স লিগ—দুই আসরের সেমিফাইনালেই স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ফরাসিদের। তবে সেই পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবতে নারাজ দেশম।
তার ভাষায়, ‘সেই ম্যাচগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করার সুযোগ নেই। দুই দলের খেলোয়াড়, ফর্ম এবং বাস্তবতা এখন ভিন্ন। স্পেন তখন ভালো খেলেছিল এবং জিতেছিল। কিন্তু এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আগামী ম্যাচ।’
সান নিউজ/ জামান
