সাভারের হেমায়েতপুর শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি তাজা হাতবোমাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাছের একটি তিনতলা ভবনে বিস্ফোরক থাকার সন্দেহে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে সিটিটিসি ও পুলিশ সদস্যরা। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সেখানে অভিযান চলমান ছিল।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, হেমায়েতপুর শ্যামপুর এলাকা থেকে পাঁচটি হাতবোমা ও বিস্ফোরকসহ এক যুবককে আটক করেছে সিটিটিসি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাড়িটি চলতি মাসের ১ তারিখে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিস্ফোরক রাখা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত থাকতে পারে।’
ওসি আরও জানান, অভিযান চালিয়ে ওই বাড়ি থেকে জেএমবির কিছু লিফলেট, ককটেল সদৃশ বস্তু এবং বোমা তৈরির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উপকরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আটক ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এলাকায় আতঙ্ক, বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
এ ঘটনায় শ্যামপুর ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ভবনের আশপাশে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম মজুত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বাড়িটিতে তালা থাকায় ভেতরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় এক মুদি দোকানি জানান, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে সিটিটিসি সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন। ভবনের সামনের সড়কে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভাড়াটিয়ার বিষয়ে কিছু জানতেন না মালিকপক্ষ
বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের মেয়ে ইলমা জানান, ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে তারা আগে থেকে কিছুই জানতেন না।
তিনি বলেন, ‘গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তারা জানিয়েছিলেন, স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকবেন এবং পাশের একটি স্কুলে তাদের সন্তানদের ভর্তি করাবেন। পরিবার নিয়ে থাকবেন বলেই আমরা বাসা ভাড়া দিয়েছিলাম।’
ইলমা আরও বলেন, ভাড়া নেওয়ার সময় তারা জানিয়েছিলেন, তারা ড্রাইভিংয়ের কাজ করেন। বাসার ভেতরে এ ধরনের বিস্ফোরক বা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে, তা তারা জানতেন না।
এর আগে আশুলিয়ায় উদ্ধার হয়েছিল প্রেশার কুকার বোমা
এর আগে গত ৩০ জুলাই রাত ১১টার দিকে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন ‘জয়ী জেনারেল স্টোরের’ বেঞ্চে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে।
সান নিউজ/ হুমায়রা
