দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী নীতি টেলর সম্প্রতি নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। একসময় কাস্টিং কাউচের শিকার হওয়ার পাশাপাশি একটি বিষাক্ত সম্পর্কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অতীতের সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। নীতি জানান, তখন তিনি দক্ষিণী সিনেমায় কাজ করছিলেন এবং মাত্র দুটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁর প্রথম ছবির পরিচালক পরবর্তী সময়ে আরও একটি ছবিতে কাজের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবের আড়ালে ছিল অনৈতিক দাবি।
অভিনেত্রীর কথায়, পরিচালক ফোন করে তাঁকে জানান, নতুন ছবিতে চরিত্র পেতে হলে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে হবে। এমন প্রস্তাবে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান নীতি। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে ফোন কেটে দেন এবং পরিচালকের নম্বর ব্লক করে দেন। পরে পুরো ঘটনা মাকে জানান।
নীতি বলেন, ওই পরিচালক বয়সে অনেকটাই বড় ছিলেন। এর আগে তাঁকে অন্য নারীদের সঙ্গেও দেখেছিলেন তিনি। তাই তাঁর কাছ থেকে এমন প্রস্তাব আসবে, তা কখনও কল্পনাও করেননি অভিনেত্রী।
সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের আরেকটি কষ্টকর অধ্যায়ের কথাও তুলে ধরেন নীতি। জানান, একসময় একটি বিষাক্ত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সম্পর্কে তাঁকে মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি শারীরিক অত্যাচারও সহ্য করতে হয়েছিল।
অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর সাবেক প্রেমিক একবার সিগারেট দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন। এমনকি এক রাতে প্রেমিকের জন্মদিনের সময়ও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে চড় মারেন ওই ব্যক্তি।
সেই ঘটনার কথা স্মরণ করে নীতি জানান, ওই মুহূর্তেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। বহু বছর পর অতীতের এসব যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী।
নিজের জীবনের কঠিন অধ্যায়গুলো প্রকাশ্যে এনে নীতি টেলর তুলে ধরেছেন বিনোদনজগতের অন্ধকার দিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কে নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা।
সান নিউজ/ রাব্বি
