রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই নির্ধারিত বিদেশ সফর শেষ না করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য জানেন না।
স্পিকার জানান, ব্যক্তিগত চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। তাই কে পদত্যাগ করেছেন বা কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই। এখন হয়তো বিষয়টি জানতে পারব।”
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ একজন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন। এই হলো সংবিধানের পজিশন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি। তিনি পদত্যাগ করলে সেই অনুযায়ী তারপর যে ব্যাকগ্রাউন্ডটা থাকে, সেই জায়গাতে… এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। সুতরাং উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।’
নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসার কথা ছিল ২৬ তারিখে। আমার ব্যক্তিগত কাজ, আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, সেজন্যই আমি এসেছি।’
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পরবর্তী দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা ট্র্যাডিশন। দেশের সংবিধানে লেখা আছে, যখন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তখন স্পিকার অ্যাক্টিং রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ। সেটা তিন মাসের মধ্যে করতে হয়। এটা হলো সংবিধানের পজিশন।’
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়।
এর আগে, চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে এরইমধ্যে অনেকটা হঠাৎ করেই বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়ায়— পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি। তার মধ্যে স্পিকারের আগাম দেশে ফেরার খবর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনাকে আরও জোরদার করে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে নিজের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্র জমা দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। অন্যদিকে, ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৮ দিন এই দায়িত্বে ছিলেন।
