রাজধানীর মালিবাগ, আগারগাঁও ও মহাখালীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
দুপুরে জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেট-সংলগ্ন সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, জুমার নামাজের পরপরই ফ্লাইওভারের ওপর থেকে ককটেল ছোড়া হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানতে চেষ্টা চলছে। ফ্লাইওয়ের প্রবেশমুখের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আগারগাঁওয়ের বেতার ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তখনো পাওয়া যায়নি।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মহাখালী এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বনানী থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারেক গণমাধ্যমকে বলেন, মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে একটি ককটেল ছোড়া হয়েছে। কে বা কারা ককটেলটি ছুড়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ কাজ করছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা হিসেবে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
সান নিউজ/আরএ
