📰 এক ঝলক : সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরাইলি হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের!
আইআরজিসির হুংকার: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে সর্বাত্মক সামরিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
মৃত্যুপুরী সতর্কতা: শত্রুপক্ষ আকাশপথ বা সীমান্ত পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেই এলাকাকে ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত করার পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ধ্বংসাত্মক আঘাত হানার সক্ষমতার কথা জানিয়েছে তেহরান।
কূটনৈতিক অবস্থান: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনা করছে ইরান; আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক বলা হলেও এখনই সরাসরি বৈঠকে বসার প্রয়োজন দেখছে না তারা।
চূড়ান্ত প্রস্তুতি: অস্ত্রভাণ্ডারের আধুনিকায়ন ও কৌশলগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে সশস্ত্র বাহিনী এখন সর্বোচ্চ যুদ্ধের অ্যালার্টে রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা তুঙ্গে। ওয়াশিংটন বা তেল আবিব যেকোনো মুহূর্তে আকস্মিক সামরিক আগ্রাসন চালাতে পারে—এমন তীব্র আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি দেশটির প্রভাবশালী বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, যেকোনো ঝটিকা আক্রমণ প্রতিহত করতে ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই তাদের অপ্রস্তুত বা দুর্বল অবস্থায় ধরতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সামরিক কাঠামো।
মৃত্যুপুরী’ হুংকার ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের সক্ষমতার দাবি :
জেনারেল জাভানি আরও জোরালো কণ্ঠে উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তেহরান এখন কেবল রক্ষণাত্মক কৌশলেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং পরিস্থিতি ও কৌশলগত প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো আগাম বা আক্রমণাত্মক অভিযান চালিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
আধিপত্য বিস্তারকারী আমেরিকা বা ইসরাইলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আঞ্চলিক জলসীমায় মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর অত্যন্ত নির্ভুল ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানার মতো আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার তাদের হাতে রয়েছে।
এমনকি শত্রুবাহিনী যদি ভুলবশতও আকাশপথ কিংবা স্থল সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানের ভেতর ঢোকার ধৃষ্টতা দেখায়, তবে সেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড মুহূর্তের মধ্যে হানাদারদের জন্য একটি অবর্ণনীয় ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হবে।
ওয়াশিংটনের চিঠির জবাব ও আলোচনার টেবিলে তেহরানের অবস্থান :
ব্যাপক যুদ্ধ প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক ময়দানেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরান। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি কূটনৈতিক চিঠি বর্তমানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আলোচনার এই উদ্যোগকে তারা তাত্ত্বিকভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখনই সরাসরি কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে না ইরান।
তবে কূটনীতির দরজার পাশাপাশি সামরিক শক্তির হুংকার বজায় রেখে আরাঘচি সাফ জানিয়ে দেন, যেকোনো ধরনের অবনতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো পূর্ণ মানসিক ও সামরিক প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাদের পুরো অস্ত্রভাণ্ডারকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে, অতীতের সমস্ত কৌশলগত দুর্বলতা সফলভাবে কাটিয়ে ওঠা হয়েছে এবং বহু নতুন ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক প্রয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান সময়ে তাদের প্রতিটি সামরিক ইউনিট সর্বোচ্চ অ্যালার্ট বা যুদ্ধপ্রস্তুতিতে রয়েছে।
এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি আরও এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন ও ইসরাইলি জোটকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন যে, শত্রুর তরফ থেকে সামান্যতম আগ্রাসী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্রই সেই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময়, ক্ষণ এবং আক্রমণের ধরন ঠিক করে ফেলবে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন রণহুংকারে বিশ্ব রাজনীতিতে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের কালো মেঘ ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব
