মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার চরাঞ্চলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন দফায় অস্ত্রের মহড়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রাম এবং পরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দুপক্ষের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
এ পক্ষ দুটি হলো : মো. বোরহানউদ্দিন মিজি ও শরাফত আলী সরকার। সংঘর্ষে আহতরা হলেন- বোরহান মিজি পক্ষের জাহাঙ্গীর মিজি (৪০), শরিফ মিজি (৩২), আরিফ মিজি (২৯), কবির মিজি (৫৫), শেফালী বেগম (৩৬) ও পপি বেগম (২৮)। শরাফত আলি সরকার পক্ষের আহতরা হলেন আলমগীরের ব্যাপারী (৬০), রবিন (২৮), দুলাল (৩০), সাব্বির বেপারি (২২), আক্তার বেপারি (২৫) ও দিলা দেওয়ান (৪০)। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর, রবিন, দুলালসহ উভয় পক্ষের তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বোরহান মিজি ও তাঁর প্রতিবেশী শরাফত আলি সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার সকালে বোরহান মিজিরা তাঁদের জায়গায় ঘর তুলছিলেন। সে সময় শরাফত পক্ষের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বন্দুক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বোরহান মিজিদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় বোরহান মিজির ছেলেরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল আমীন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। তাঁদের শরীর ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে আরও একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বোরহান মিজির ছেলে শরিফ মিজি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসতভিটা দখল করতে শরাফত সরকাররা হামলা, মামলা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। রোববার সকালে আমরা আমাদের জায়গায় ঘর তুলছিলাম। তখন শরাফত সরকার পাশের গ্রামের আলমগীরের, দিলদার ভাড়া করে এনে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বন্দুক দিয়ে গুলি করে, বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করে। আমার ভাই জাহাঙ্গীর মিজিকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে চিকিৎসা নিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে শরাফত আলী সরকার বলেন, আমরা কারও ওপর হামলা করিনি। বোরহানরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমাদের রেকর্ডভুক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিল। সকালে জমির গাছপালা কেটে জোর করে দখল করতে গেলে আমরা বাধা দেই।
খবর পেয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তছলিম উদ্দিন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
