ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ এবং ক্ষুদ্র মৎস্য সম্পদের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সমন্বয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজৈ ইউনিয়নের উন্মুক্ত জলাশয়, খাল-বিল ও আশপাশের বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ জালের ব্যবহার বাড়ছে-এমন খবরের ভিত্তিতে উপজেলা মৎস্য দপ্তর বিশেষ এই অভিযানের পরিকল্পনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে স্থানীয় জলাশয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল হাতেনাতে জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে এসব জাল পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ না থাকে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইদুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, দেশীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও ছোট মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে তাদের এই অবস্থান জিরো টলারেন্স। তিনি বলেন, দেশীয় প্রজাতি ও ছোট মাছ রক্ষায় অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় জনস্বার্থে আমাদের এই তদারকি ও অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে।
মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কারেন্ট জালের সূক্ষ্ম বুননের কারণে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এবং পোনা মাছ আটকে যায়, যা স্থানীয় জলাশয়ের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার রূদ্ধ করা না গেলে ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযান পরিচালনা করার সময় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মৎস্য দপ্তরের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে জলাশয়গুলোকে অবৈধ জাল মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। মৎস্য দপ্তর জানিয়েছে, আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার ও বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান নিউজ/আরএ
