জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর এক সংবাদ সম্মেলনে আহদী আমিন এসব কথা জানান। এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পর দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান, ভিশন ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বাবা-মায়ের দেশপ্রেম, গণমানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে বুকে ধারণ করে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবেন।
তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নিউইয়র্ক সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও অন্যান্য সফরসঙ্গী। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে তাঁকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে অবস্থান করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁদের সন্তান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার এই অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব।
সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, অতীতে জাতিসংঘের সফর ঘিরে যে দীর্ঘ ও বিশাল বহরের সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে এসেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতেই দুই দিন (আসা-যাওয়া) সময় চলে যায়। এই যাতায়াতের দুই দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালের চার দিন, সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ৬ দিনের একটি সফর।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, নিউইয়র্কে অবস্থানকালীন এই চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, অতীতে জাতিসংঘের সফর ঘিরে যে অহেতুক ব্যয় ও বিশাল বহরের সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ বের হয়ে এসেছেন। এবারের সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি সিকিউরিটি, মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত কিছু অত্যাবশ্যকীয় কর্মকর্তা রয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী পদে থাকা ১৫ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে আছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং প্রতিমন্ত্রী-২, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী। এর বাইরে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব। এছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মিশনের কর্মকর্তারাও।
মাহ্দী আমিন জানান , এই প্রতিনিধিদল নিয়ে আসার একমাত্র লক্ষ্য হলো বিশ্বনেতাদের সঙ্গে প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে যেন বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, সাধারণ মানুষের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
আগামী দিনের কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুধবার (স্থানীয় সময়) সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসিপশনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল নয়টায় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দেবেন, যেখানে বিশ্বনেতারা উপস্থিত থাকবেন। সফরজুড়ে প্রতিদিনের কূটনৈতিক বৈঠকের সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমের কাছে নিয়মিত তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলাসহ প্রেস টিমের সদস্যরা।
আমার বাঙলা/ মোশাররফ বাবলু
