আগে থেকেই উচ্চমূল্যের টিকিট, যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ফিফা এবার পানির বোতল নীতি নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছে। আসন্ন বিশ্বকাপ ভেন্যুতে দর্শকদের পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি।
ফিফা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে দর্শকরা ২০ আউন্স (প্রায় ৫৯০ মিলিলিটার) পর্যন্ত ধারণক্ষমতার নরম প্লাস্টিকের, একবার ব্যবহারযোগ্য ও সিল করা পানির বোতল সঙ্গে আনতে পারবেন।
এর আগে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুতেই পানির বোতল বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যুক্তি ছিল, মাঠে কোনো ধরনের বস্তু নিক্ষেপ করে খেলোয়াড়দের ঝুঁকির মুখে ফেলা হতে পারে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে ফিফা অবস্থান পরিবর্তন করে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শক্ত আবরণযুক্ত বা পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে না, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।
বিশ্বকাপ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বিভিন্ন শহরে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি থাকার পূর্বাভাস থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমর্থকরা শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমর্থক সংগঠন ‘ফ্রি লায়ন্স’ এক বিবৃতিতে ফিফার সিদ্ধান্তকে অর্থনৈতিক স্বার্থ-নির্ভর বলে মন্তব্য করে জানায়, এটি দর্শকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কৌশল বলে তাদের ধারণা।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও আগের সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন। কানাডার টরন্টোর মেয়র ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়রও একই ধরনের সমালোচনা করে বলেন, গরম আবহাওয়ায় পানি বহন সীমিত করা অযৌক্তিক এবং এটি অতিরিক্ত বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্বকাপ চলাকালীন স্টেডিয়ামগুলোতে পানি, কোমল পানীয় ও জুস সরবরাহে ফিফার দীর্ঘদিনের স্পন্সর কোকা-কোলা একচেটিয়া দায়িত্ব পালন করবে বলে জানা গেছে।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর।
