মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় সম্পত্তি দখলচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় ছাত্রদল নেতাসহ দুই জনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী মো. আবদুস সালাম (৫৭)। অভিযুক্তদের মধ্যে অপূর্ব রহমান অপু (২৭) জেলা সদরের মিরকাদিম পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রদল সভাপতি। ডায়েরিতে অন্য অভিযুক্ত হলেন একই এলাকার মো. আবিদ (২৫)। ২০ অক্টোবর সদর থানায় এই জিডিটি দায়ের করা হয় (জিডি নং- ১৩৫৫)।
জিডি ও স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর রামগোপালপুর বাসিন্দা মো. আবদুস সালাম ও তার পরিবারের সাথে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনছুর আহমেদ কালাম এর সাথে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে। এখন ওই জমি বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রদল নেতা অপূর্ব রহমান অপু ও তার সহযোগী মো. আবিদ উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা এবং ভুক্তভোগীকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষ নিয়ে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০ অক্টোবর সকাল ১০ টার দিকে অপুসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা চালায়। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে বাধা দিলে হাত-পা ভেঙে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং খুন-জখম করাসহ সপরিবারে এলাকা ছাড়া করার হুমকি প্রদান করে অভিযুক্তরা। ভুক্তভোগীর বাজারে থাকা দোকানে তালা দেন।
ভুক্তভোগী মো. আব্দুস সালাম জানান, সম্পত্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জেলা আওয়ামী লীগের মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালামের সাথে মামলা চলমান। মামলা বর্তমানে আপিল ডিভিশনে শুনানিতে রয়েছে। শুনানি অন্তে কালাম গংদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি যাতে দখল করতে না পারে, আদালত পজিশনের বিষয়ে স্ট্যাটাসকো প্রদান করেন। ওই জমি আমি হিমেল ভূইয়ার নিকট ভাড়া দিয়েছি।
এখন কালাম ছাত্রদলের সভাপতি— অপুকে দিয়ে আমার জমি ভাড়া নিয়েছে হিমেলকে জমিতে চাষাবাদ করতে নিষেধ করছে এবং জমির দখল বুঝিয়ে দিতে বলে। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে কালকে এখানে ২০ থেকে ৫০ জন লোকজন ও পোলাপান নিয়ে আসে। এরপরে গণ্ডগোল করে। তখন ছাত্রদলের অপু বলে, আবার দখলে যাব, পারলে কিছু করিস; থানা-পুলিশ করে কিছু করতে পারবি না।” এরপর গিয়ে আমাদের দোকান ঘরের দরজা বন্ধ করে তালা মারে; বলে, “আবার তালা দেব, পারলে কিছু করিস।” পরে আমরা থানায় জিডি দায়ের করি।
এ বিষয় জমি ভাড়া নেয়া হিমেল ভূইয়া বলেন, আমি আব্দুস সালাম কাকার কাছে থেকে জমি ভাড়া নিয়েছি। গত ১৯ তারিখে ছাত্রদল নেতা অপু এসে আমার শ্রমিকরা কাজ করছে, তখন সালাম কাকাকে খোঁজে, পরে আমি গেলে বলে জমি ছেড়ে দিতে হবে আমরা কালাম সাহেব থেকে জমি নিছি। ওরা চাঁদাও দাবি করে আমার কাছ থেকে। আমি আজও শ্রমিকদের ১৫ হাজার টাকা কাজের খরচ দিলাম, ওরা কিসের চাষাবাদ করে মিথ্যা কথা।
অভিযোগের বিষয়ে মিরকাদিম পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রদল সভাপতি অর্পূব রহমান অপু বলেন, ওই জমি ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে কালাম সাহেব থেকে আমার ফ্রেন্ড ও আমি ভাড়া নিছি, আমরা মিলাঝিলা এখানে পার্টনারে আমরা চাষাবাদ করতাছি ও মাছ চাষ করছি। এখন ওরা আমাদের হুমকি দিতাছে যে, এখান থেকে সইরা যেতে নাইলে তোর পুকুরে বিষ দিয়া মাছ মাইরা ফেলবো। আমরা কাউকে হুমকি দেয়নি। আর আমার আগে জিডি করা রয়েছে। আমি নিজেও সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এদিকে, এ ঘটনায় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মনছুর আহমেদ কালাম মুঠোফোনে বলেন, ওই জমিটি আমি অপূর্বদের দিছি, দেখাশোনা করার জন্য। ওই জমির মামলায় আমি হাইকোর্ট থেকে রায় পেয়েছি। ওরা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নাকি, শুনলাম আবার আপিল করছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. রোমান হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয় শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্হা নেয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আদালতের পারমিশন নিয়ে, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।
সাননিউজ/বান্না
