নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের, দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মাঝখানে প্রবাহিত হইয়াছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। দুই জেলার দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, নদীটির উপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি পরীক্ষা ও সমীক্ষার কাজ শেষ হলেও সেতু নির্মাণে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী সহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও নৌকায় পারাপার করছেন।
বর্ষা মৌসুমী এই দুর্ভোগ ও ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর জানায়, সেতুর অভাবে কৃষি পণ্য সময় মত বাজারে নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। এছাড়া জরুরী রোগী হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সেতুর গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করে। এরপর দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আল ফাহাদের উদ্যোগে স্থানীয়দের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জমা দেওয়া হয়।
আবেদনটির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় দপ্তরে পাঠানো হয়। মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও এলজিইডির একটি প্রতিনিধির দল সরোজনী এসে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেন।
কিন্তু এর পরেও সেতু নির্মাণের বিষয়ে আর কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। স্থানীয় খেয়া ঘাটের মাঝি মিজান বলেন, এখানে একটি সেতু খুবই প্রয়োজন, সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে,ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, এবং জনদুর্ভূগ অনেক কমে যাবে।
সেতু না থাকায় দুই পাড়ের হাজারো মানুষের নিত্যদিনের ভরসা এখনো বাশের সাঁকো ও নৌকা। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরেও সেতু নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। জনদুর্ভোগ লাগবে দ্রুত সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জনগণ।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
