নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর লক্ষ্মীদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছৈয়দ আহাম্মদ (৮৩) প্রায় ৫৪ বছর নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ বাড়ি ফিরে এসেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) এ ঘটনায় ছৈয়দ আহাম্মদের ছেলে মো. আকরাম (৫৩) হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচবিঘা গ্রামের ফজলি বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ দশক আগে কুতুবদিয়া উপকূল এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হন ছৈয়দ আহাম্মদ। দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার ধরে নেয় তিনি আর বেঁচে নেই। পরে স্বজনরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।
পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর কোনোভাবে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন এলাকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কাটান তিনি। সম্প্রতি ভারতের হাওড়া স্টেশন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
গত মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে ফিরে এসে নিজের পরিচয় দিলে প্রথমে অনেকে বিস্মিত হন। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে শনাক্ত করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ।
তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসার এই ঘটনায় পরিবারে নতুন জটিলতাও তৈরি হয়েছে। ছেলে আকরাম অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও টাকাপয়সা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
স্থানীয়দের অনেকে ঘটনাটিকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন। হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ ৫৪ বছর পর জীবিত ফিরে আসবেন— এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ‘বৃদ্ধের ছেলে আকরাম জানিয়েছেন, তার বাবা ফিরে আসার পর চাচাতো ভাইদের কাছে উঠেছেন। পরে সামাজিক সিদ্ধান্তে তাকে নিজের কাছে রাখতে চাইলেও চাচাতো ভাইরা থাকতে দিচ্ছেন না। বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।’
সাননিউজ/আরএ
