সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী বড় বাজারে প্রকাশ্যে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বিপজ্জনক আতশবাজি। প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজারের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দোকানে টেবিল পেতে বিভিন্ন ধরনের বাজি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের লুকোচুরি ছাড়াই ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে প্রকাশ্য দর-কষাকষি, আর অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ পণ্য।
এদিকে বাজির বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন হৃদ্রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা শরিফ ইসলাম বলেন, আমি হৃদ্রোগে আক্রান্ত একজন মানুষ। কিছুক্ষণ পরপর বাজির বিকট শব্দে বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ এমন শব্দ হলে বুক ধড়ফড় করে এবং সঙ্গে সঙ্গে বুকে ব্যথা শুরু হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত শব্দবাজি ও আতশবাজির অবাধ বিক্রিতে শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও হৃদ্রোগীদের জন্য এসব উচ্চ শব্দের বাজি হয়ে উঠেছে চরম ভোগান্তির কারণ। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান ছাড়া এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ মিলবে না।
বয়স হয়েছে, তার ওপর হৃদ্রোগের সমস্যা। এ অবস্থায় এ ধরনের শব্দ আমার জন্য খুবই কষ্টকর। একটু শান্তিতে থাকারও উপায় নেই। উৎসবের আনন্দ করতে গিয়ে এমন শব্দে আমাদের মতো অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমি চাই, সবাই বিষয়টি বিবেচনা করে অসুস্থ মানুষের কষ্টের কথা ভেবে উচ্চ শব্দের বাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকুক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজারে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এসব বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ পণ্যের বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাজারে বাজি বিক্রি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আফাজ উদ্দিন বলেন, সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে এত বড় একটা বাজারে সবার চোখের সামনে সারি সারি দোকান পেতে বাজি বিক্রি হচ্ছে, তা আমার বোধগম্য নয়। তীব্র আওয়াজের এসব শব্দবাজি শুধু হৃদ্রোগী বা শিশুদের জন্যই ক্ষতিকর নয়, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর নরসিংদীর সাধারণ সম্পাদক হলধর দাস বলেন, বড় বাজারে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে এ ধরনের দাহ্য ও বিস্ফোরক জাতীয় বাজি খোলামেলাভাবে বিক্রি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ, তা যাচাই করে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ফটকা ও শব্দবাজির ব্যবহারের সুযোগে অপরাধী চক্র আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতা বা অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এসব বাজির বিকট শব্দে সৃষ্ট শব্দদূষণ আইনত নিষিদ্ধ এবং এটি বয়স্ক, শিশু ও হৃদ্রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন সান নিউজকে বলেন, জনস্বার্থে বাজি ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরও কেউ বিক্রি করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সান নিউজ / রাজীব
