দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে কিশোরগঞ্জের বিস্ময় বালিকা মারিয়া।
গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে ডাবল চ্যাম্পিয়ন। লাল ট্র্যাকে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার গতির ঝড়। কিশোরগঞ্জের অজপাড়াগাঁয়ের মারিয়া আক্তার তাসপিয়া। দেশের উঠতি প্রতিভাদের সেরা আসর নতুনকুড়িঁ স্পোর্টসে জাতীয়ভাবে ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটিতেই স্বর্ণ জিতে পুরো দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই বিস্ময় বালিকা।
তবে এ সাফল্যের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সদরে এসে অনুশীলন করতে গিয়ে প্রতিদিনই সময় ও অর্থ ব্যয় হতো অনেক। দারিদ্র্যের সংসারে কৃষক বাবার পক্ষে খেলার খরচ চালানো অসম্ভব ছিল। সেখানে মারিয়ার অদম্য স্বপ্নই ছিল তার মূল শক্তি।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াল ইউনিয়নের শেহড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরণ মিয়ার ছোট মেয়ে মারিয়া। ৬ ভাইবোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ১৪ বছরের মারিয়া স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রশিক্ষক (কোচ) আ. জব্বারের নিবিড় পরিচর্যায় গড়ে ওঠে মারিয়া। ১০০ মিটারে ১৩.৭৫ এবং ২০০ মিটারে ২৮.৯৯ সেকেন্ডে টাইমিং করে নিজের আধিপত্য প্রমাণ করে। শীর্ষের এই কৃতিত্বে বিশ্বমঞ্চের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় কোচও। মেঠোপথ পেরিয়ে লাল ট্র্যাকের ঝড়তোলা মারিয়ার গতি এখন অলিম্পিকের স্বপ্নের ডানা মেলছে। প্রয়োজন কেবল সুনির্দিষ্ট পরিচর্যা ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কৃতি অ্যাথলেট মারিয়া স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে প্রথম স্থান অধিকার করার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার (স্বর্ণপদক) গ্রহণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় উপস্থিত দর্শক ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টরা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান।
মারিয়ার এ সাফল্যে পুরো কিশোরগঞ্জে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মারিয়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনবেন।
মারিয়া বলেন, নিয়মিত অনুশীলন, কোচের দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মারিয়ার ইচ্ছা, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জে আসলে তিনি যেন তাদের বাড়িতে বেড়াতে যান।
দেশের অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছেন কিশোরগঞ্জের মারিয়া। স্প্রিন্ট ইভেন্টে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেন তিনি।
গ্রাম থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে এমন কৃতিত্ব অর্জন করায় মারিয়ার এই সাফল্যে আনন্দের বন্যা বইছে কিশোরগঞ্জে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তার এই অর্জন তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে। মারিয়ার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমগ্র এলাকার জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, নতুনকুড়িঁ প্রতিযোগিতায় স্প্রিন্টে জাতীয়ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছে মারিয়া। সে এ জেলার সম্পদ। সে কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিকেএসপিতে ভর্তি, ক্রীড়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বৃত্তি, এছাড়াও এককালীন অনুদান, অনুশীলনসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে তাকে। এ ধরনের প্রতিভাবানদের জন্য সরকার সবসময় সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।
সান নিউজ/ জামান
