সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনাপর্ব শুভ মহালয়া। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে চণ্ডীপাঠ ও আগমনী গানের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে আবাহন জানান ভক্ত ও পুণ্যার্থীরা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ, আর দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভোর থেকেই শুরু হয় চণ্ডীপাঠ, পিতৃতর্পণ ও বিশেষ পূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি দেবী দুর্গার আগমনে অশুভ শক্তির বিনাশ ও বিশ্বশান্তি প্রার্থনা করেন ভক্তরা। এ উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী পুণ্যার্থী।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সবাইকে মহালয়ার শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মহালয়ার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এ দেশের সব মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার পূজামণ্ডপগুলোর আর্থিক অনুদান ও বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধে এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনায় রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা—অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বয়ে আসুক।
সান নিউজ/ রাব্বি
