সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচের চতুর্থ দিনটি পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। বল হাতে স্বাগতিক বোলারদের জন্য পুরো দিনটিই ছিল চরম হতাশার ও ক্লান্তিকর।
দিনভর উইকেটে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ম্যাচ নিজেদের মুঠোয় পুরেছে সফরকারী দল। দিনশেষে আলোকস্বল্পতার কারণে যখন খেলার সমাপ্তি টানা হয়, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের চেয়ে তারা বর্তমানে ৩১৫ রানে এগিয়ে রয়েছে।
দিনের শুরু থেকে ক্যারিবিয়ানদের রান উৎসব :
আজ রোববার টেস্টের চতুর্থ দিনে সকালের প্রথম সেশন থেকেই দারুণ আগ্রাসী মেজাজে রান তুলতে শুরু করেন উইন্ডিজ ব্যাটাররা। প্রথম সেশনের ৩০ ওভারের মারমুখী ব্যাটিংয়ে তারা স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত ১২১ রান যোগ করে।
এ সময় স্পিনার তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ৩৬ রান করে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হন জশুয়া ডা সিলভা।
এরপর ব্যক্তিগত ৬১ রান করা ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে এই দুটি সাফল্য ছাড়া পুরো দিনে আর কোনো বড় স্বস্তির দেখা পায়নি বাংলাদেশ দল।
সিলেট টেস্টের সংক্ষিপ্ত তথ্য
-
১ম ইনিংস স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ ও বাংলাদেশ ৩৮৬ (তাওহীদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক ২৪২ রান)।
-
২য় ইনিংস (দিনশেষ): ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান (সংগৃহীত)।
-
বর্তমান লিড: বাংলাদেশের চেয়ে ৩১৫ রানে এগিয়ে।
-
মূল জুটি: কেভেম হজ (১৪০*) ও কেভিন উইকহাম (৭৮) তৃতীয় উইকেটে ১৬৫ রানের অনবদ্য জুটি গড়েন।
-
বোলিং: বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি উইকেট শিকার করেছেন।
পঞ্চম ও শেষ দিনে ক্যারিবিয়ানদের লিড কোথায় গিয়ে থামে এবং বাংলাদেশ দল পাহাড়সম এই লক্ষ্য কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
হজ ও উইকহ্যামের রেকর্ড জুটি :
ওই দুই উইকেটের পতনের পর উইকেটে থিতু হয়ে বসেন কেভেম হজ এবং অভিষিক্ত তরুণ ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম। দ্বিতীয় সেশনে এই দুই ব্যাটার কোনো সুযোগ না দিয়ে মাত্র ২৮ ওভারে যোগ করেন আরও ১৩১ রান।
চা বিরতির সময় হজ ৯৩ ও উইকহ্যাম ৬৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। বিরতির পর মাঠে নেমেও তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে কোনো ছেদ পড়েনি।
শেষ পর্যন্ত ৭৮ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলা উইকহ্যামকে ফিরিয়ে এই বিশাল জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। উল্লেখ্য, অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই ফিফটি হাঁকানোর বিরল গৌরব অর্জন করেছেন এই তরুণ ক্যারিবিয়ান ব্যাটার।
হজের অনবদ্য সেঞ্চুরি ও দিনশেষের চিত্র :
উইকহ্যাম ফিরে গেলেও কেভেম হজকে বোলারদের কেউ বশে আনতে পারেননি। দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং ইনিংসটিকে আরও অনেক দূর টেনে নিয়ে যান।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় তিনি ১৮৯ বল মোকাবেলা করে ১৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গে ২০ রান নিয়ে দিন শেষ করেছেন প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো আমির জাঙ্গু।
মোটকথা চতুর্থ দিনে পুরো ৭৯ ওভার ব্যাট করে মাত্র ৩ উইকেটের বিনিময়ে ৩৩৮ রান যোগ করেছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের সফল বোলারদের মধ্যে তাইজুল ইসলাম ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ১টি উইকেট শিকার করেছেন; বাকি বোলাররা ছিলেন সম্পূর্ণ উইকেটশূন্য।
বাংলাদেশের সামনে কঠিন ইতিহাস গড়ার হাতছানি :
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৩৯৬ রান তুলেছিল, যেখানে তাওহীদ হৃদয়ের ঐতিহাসিক অপরাজিত ২৪২ রানের সুবাদে স্বাগতিকরা ৩০ রানের লিড পেয়েছিল।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের এই অতিমানবীয় ব্যাটিং ঝড়ে সেই লিডের সুবিধা এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে। উল্টো স্বাগতিক শিবিরের সামনে অপেক্ষা করছে অত্যন্ত কঠিন এক লক্ষ্য।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডটি ২১৫ রানের, যা ২০০৯ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই অর্জিত হয়েছিল।
এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ টাইগারদের সামনে। পঞ্চম ও শেষ দিনে ক্যারিবিয়ানরা লিডটাকে আরও কতটা বাড়ায় এবং বাংলাদেশ দল এই কঠিন চাপ কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন ম্যাচের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
সান নিউজ / রাজীব
