রাজধানী ঢাকার সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সমাধান নয়
ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব নয়, কারণ এগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ব্যবস্থা নেই। ফলে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
তার ভাষায়,
“এটি শুধু পুলিশের একার কাজ নয়। নিয়মিত অভিযান চলছে, তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থায় এআই প্রযুক্তির পরিবর্তন
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগে সিগন্যালে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যদের অনেক কষ্ট করতে হতো। তবে এআই ক্যামেরা চালু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমানে রাজধানীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৫০০টি মামলা এবং ৩৮ হাজারের বেশি সমন ইস্যু করা হয়েছে।
ডিজিটাল নজরদারিতে কঠোর হচ্ছে ব্যবস্থা
ডিএমপি জানিয়েছে, ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এই এআই প্রযুক্তি চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে এটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এআই ক্যামেরা ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী গাড়ি শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পাঠাচ্ছে, যার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটাল মামলা করা হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে চ্যালেঞ্জ
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা অস্থির হয়ে পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নিবন্ধন না থাকায় এসব যানবাহনের সঠিক পরিসংখ্যানও নেই।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও অনেক ক্ষেত্রে এসব যানবাহন আবারও সড়কে ফিরে আসছে, যা নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে।
ভবিষ্যতে আরও সমন্বয়ের পরিকল্পনা
ডিএমপি কমিশনার বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ধাপে ধাপে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
