▌এক নজরে
🔹 বিজয়ী: মির্জা ফয়সল আমিন (বিএনপি)
🔹 প্রাপ্ত ভোট: ২,২৭,৭৮৯
🔹 নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: দেলাওয়ার হোসেন (জামায়াত)
🔹 ভোটের ব্যবধান: ১,৩১,৩৩৬
🔹 ভোটার উপস্থিতি: ৬৪.৭৭%
🔹 মোট কেন্দ্র: ১৮৫
▌হাইলাইটস
✓ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির বড় জয়
✓ ধানের শীষে ফয়সল আমিনের ঝুলিতে ২.২৭ লাখ ভোট
✓ জামায়াত প্রার্থীকে হারালেন ১.৩১ লাখ ভোটে
✓ ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬৫ শতাংশ
✓ ফখরুলের শূন্য হওয়া আসন ধরে রাখল বিএনপি
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি দুই লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩। এতে এক লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার রাতের দিকে সব কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা অন্য প্রার্থীরা ভোটের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৮ ভোট পেয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট। এ নির্বাচনে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩০৮।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে ভোটগ্রহণের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র ছিল।
এ আসনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন চারজন। এছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ২৮৭ জন ভোটার।
উপনির্বাচনের আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ সরে দাঁড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমিত হয়ে আসে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ফলাফল ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন। কারণ, চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তার পদত্যাগের ফলে আসনটি শূন্য হয়ে গেলে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
এদিকে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে মিছিল, আনন্দ শোভাযাত্রা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে তারা বিজয় উদযাপন করেন। অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করল বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে থাকবে।
সান নিউজ / রাজীব
