দেশে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে সাত হাজার ৯৬৩ শিশু। বুধবার (২১ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজপোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সবচেয়ে বেশি শিশুর প্রাণ ঝরেছে গ্রামীণ সড়কে। শহরে যেখানে প্রাণহানি শতকরা ১৫ শতাংশ, সেখানে গ্রামীণ সড়কে তা দ্বিগুণেরও বেশি।
এ সময়ে আঞ্চলিক সড়কে দুই হাজার ৮২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। মহাসড়কে ২৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ, অর্থাৎ এক হাজার ৯৭৪ জন।
মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে বা আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছে দুই হাজার ৯৫৮ শিশু, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
রাস্তা পার হতে গিয়ে ও রাস্তায় হাঁটার সময় যানবাহনের ধাক্কায় ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ বা দুই হাজার ৮১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে দুই হাজার ১৯৩ শিশু, অর্থাৎ ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে থ্রি-হুইলারের (সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি) ধাক্কায়। ছয় বছরে নিহত হয়েছে এক হাজার ২৭১ শিশু, অর্থাৎ মোট দুর্ঘটনার ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ভ্যান। এসব যানবাহনে পিষ্ট/চাপা বা ধাক্কায় এক হাজার ১২৬ শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য ফোর হুইলার দুর্ঘটনায় ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ শিশুর প্রাণ গেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৯৮ শিশু, অর্থাৎ মোট দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এসব দুর্ঘটনার ৩৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশই হয়েছে বিকেলে। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ বছর বয়সী এক হাজার ৫৩২ জন; ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী দুই হাজার ৮৮৪ ও ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী তিন হাজার ৫৪৭ শিশু নিহত হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, দুই হাজার ৫১৩ শিশু, অর্থাৎ ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে।
এছাড়া বাড়ির আশে-পাশের সড়কে খেলার সময় নিহত হয়েছে ৯৬২ শিশু, অর্থাৎ ১২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।
সাননিউজ/বান্না
