মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কী লক্ষ্যবস্তু ছিল এই হামলায়?
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের একাধিক সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলায় নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনের সক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে।
দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছাকাছি তাহরুই এলাকার আশপাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগের দিনও একই এলাকায় মার্কিন হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এছাড়া কেশম দ্বীপের কয়েকটি স্থানে হামলার ঘটনাও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সেই উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যদি আগের অবস্থান থেকে সরে না আসে, তাহলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারে হামলা
শনিবার ভোরে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘কিকু’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় একটি প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে এই ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং জাহাজে থাকা অপরিশোধিত তেলেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ট্যাঙ্কারটি আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক তথ্যসূত্র জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি কাতারের আল শাহীন তেলক্ষেত্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
