ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি স্থাপনের প্রস্তাবে তেহরানের দেওয়া পাল্টা শর্তগুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাম্পের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব আলোচনায় আসে। এতে দুই পক্ষ রাজি হলে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হতো। পরে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তির দিকে এগোত দুই দেশ। গত রোববার ওই প্রস্তাবের জবাব দেয় ইরান। সেখানে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আবার হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি এবং ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ নানা দাবির কথা জানায় তেহরান।
ওই জবাবের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার এটি পছন্দ হয়নি। এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’ পরে সোমবার আবার তিনি লেখেন, ‘আমি বলব, যুদ্ধবিরতি এখন বড় লাইফ সাপোর্টে আছে—যেন একজন চিকিৎসক এসে বলছেন, জনাব, আপনার প্রিয়জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় এক শতাংশ।
সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প ‘লাইফ সাপোর্ট’ নিয়ে বক্তব্যটি দেন হোয়াইট হাউসে। এর পরপরই চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটা খুবই সম্ভব। আমি তাদের (ইরান) সঙ্গে চার বা পাঁচবার চুক্তি করেছি। কিন্তু তারা পরে মত বদলে ফেলে।’ তিনি এও বলেন, ইরানের নেতারা সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের সব মজুত সরিয়ে নিতে দিতে সম্মত হয়েছিলেন। কিন্তু পরে তারা মত বদলান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। যদিও লেবাননের নৃশংসতা থামায়নি ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননের সরকার সোমবার জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে সামগ্রিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে তেলের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির একটি। এরই মধ্যে চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
যারা অবৈধভাবে ইরানকে চীনে তেল পাঠাতে সাহায্য করছে, সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবিগুলো ন্যায্য এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে সমঝোতা না হলে তারা পুনরায় সামরিক বা অর্থনৈতিক কঠোর পদক্ষেপের দিকে হাঁটবে।
সাননিউজ/আরএ
