কারাবন্দী পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পূর্বের স্বৈরশাসনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে দেশত্যাগের মতো কোনো এক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় শীর্ষ মুখ মাহমুদ খান আচাকজাই গতকাল শুক্রবার পেশোয়ারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। বিগত বছরগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ কিংবা বেনজির ভুট্টোর ক্ষেত্রে যে কায়দায় রাজনৈতিক ডিল বা সমঝোতা সম্পন্ন করা হয়েছিল, বর্তমানের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সেই একই ছকে পরিচালনা করার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নওয়াজ শরিফের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের সামরিক পটপরিবর্তন এবং বেনজির ভুট্টোর সময়কার রাজনৈতিক পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আচাকজাই জানান যে, অতীতেও ক্ষমতাচ্যুত শীর্ষ নেতৃত্বকে একই কায়দায় দেশান্তরী হতে বাধ্য করা হয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে সৌদি আরব ও লেবাননের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় নওয়াজ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। অন্যদিকে, নানা দুর্নীতি মামলার বেড়াজালে জর্জরিত হয়ে বেনজিরকেও দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্য কিংবা দুবাইয়ে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছিল।
সেই ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বর্তমানের ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন এবং পিপিপি জোট সরকারের অতীত আমলের সঙ্গে বর্তমানের মিল খুঁজে পেয়েছেন এই বিরোধী নেতা। পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তেহরিক-ই-তাহাফুজ-আইন-ই-পাকিস্তানের অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যেমন সরদার আখতার মেঙ্গল এবং আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান বন্দীদশার কঠোরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদ খান আচাকজাই জানান যে, বিচারধীন বা কারাবন্দী কোনো ব্যক্তির সঙ্গে স্বজন কিংবা রাজনৈতিক সহযোগীদের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার এমন নজির সভ্য দুনিয়ার কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সংসদীয় ব্যবস্থাকে প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি পার্লামেন্ট থেকে গণপদত্যাগের কঠোর হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। একই সঙ্গে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা ও উৎকণ্ঠার কথা তুলে ধরে অতি দ্রুত তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করার জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে বিরোধী জোটের এই তোপের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর প্রেক্ষাপটে গভর্নর পদ না পাওয়ায় নির্দিষ্ট এক রাজনৈতিক দলের শীর্ষপ্রধান প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি কারও নাম উচ্চারণ করেননি, তবুও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তার এই ইঙ্গিতটি মূলত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজল তথা জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের দিকেই ছিল।
অতীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় এই নেতারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বারবার সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, আজ তারাই আবার সেই একই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা অসত্য অভিযোগ তুলছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সন্ত্রাস দমনে প্রাদেশিক প্রশাসনের উদাসীনতার মারাত্মক অভিযোগ এনে পিটিআই শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও সরাসরি গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক অ্যাাখ্যা দিয়ে ফজলুর রহমান এবং মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের মতো বিরোধী মতের নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামগ্রিক এই রাজনৈতিক ডামাডোলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
সান নিউজ / রাজীব
