ঢাকার আশুলিয়ায় এক সাবেক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ইন্টারনেট সংযোগের তার কেটে জোরপূর্বক ব্যবসা দখলের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় এক কর্মচারীকে মারধর করে আহত এবং বিল আদায়ের প্রায় এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং আইএসপিএবিতেও লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
গত ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেল ৫টার দিকে আশুলিয়ার ধলপুর টাইগার মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী সরকার আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায় বিটিআরসি অনুমোদিত আইএসপি প্রতিষ্ঠান ‘এসকিউব সরকার ক্যাবল নেটওয়ার্ক’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আশুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. মিলন মোল্লার (৩৮) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ধলপুর এলাকার রনি দেওয়ান (২৫), মো. রনি (৩৫) এবং গাজীরচট এলাকার মো. মিজান (২৩)-এর নামও রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিলন মোল্লার নির্দেশে তার সহযোগীরা ধলপুর টাইগার মাঠ এলাকায় গিয়ে ‘এসকিউব ক্যাবল নেটওয়ার্ক’-এর মূল সংযোগের তার কেটে দেন। এতে ওই এলাকার ২৭৬ জন গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে এসব গ্রাহককে জোরপূর্বক অভিযুক্তদের ‘স্পিড নেট’ সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন লিয়াকত আলী।
এ সময় ইন্টারনেট সংযোগের কাজে ব্যবহৃত একটি স্প্লাইসিং মেশিনও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রায় ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী অপু কুমার (২৩) ওই এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল সংগ্রহ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার কাছে থাকা ৯৭ হাজার ৭৯৮ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ওই এলাকায় পুনরায় ইন্টারনেট সংযোগ দিতে গেলে কিংবা গ্রাহকদের কাছে বিল চাইলে অপু কুমারকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিয়াকত আলী সরকার বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। বর্তমানে তারা জোরপূর্বক তার বৈধ ব্যবসা দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও হুমকির মুখে পড়েছেন দাবি করে নিজের ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত মিলন মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এইচ এম ইমন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি জিডি ও একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় আসার জন্য ফোন করা হলেও তিনি এখনও থানায় আসেননি।
সান নিউজ/ রাব্বি
