সাভারের আশুলিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবিউল ইসলাম (২৬) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার বিকেলে আশুলিয়ার কোনাপাড়া ছয়তলা মহল্লার একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান রবিউল।
নিহত রবিউল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার দক্ষিণ দলগ্রাম এলাকার একলাস হোসেনের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকায় হাজী রফিকুল ইসলামের বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন এবং নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, কোনাপাড়া এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছিল। সোমবার বিকেলে কাজ করার সময় ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও এক নির্মাণ শ্রমিক আহত হন।
নিহতের স্ত্রী মর্জিনা বেগম জানান, গেল দুই মাস আগে কাজের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি থেকে আশুলিয়ার কোনাপাড়ায় আসেন তারা। পরে এখানে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মত সোমবার সকালেও কাজের উদ্দেশ্যে কোনাপাড়ায় যান। হঠাৎ বিকেল ৫টার দিকে খবর পান তার স্বামী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হয়েছেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে জিরানী বাজারস্থ বাংলাদেশ কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মর্জিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পরেও তার স্বামীকে ফেলে রাখা হয়েছে। কিন্তু অন্য একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সময়মতো হাসপাতালে নিলে হয়তো তার স্বামী মারা যেতনা বলে অভিযোগ করেন। তার দুইটা ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। এখন তাদের কি হবে বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এদিকে খবর পেয়ে সোমবার খবর পেয়ে সোমবার রাত ১০ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করতে আসে। পরে মৃতের আত্মীয় স্বজনরা লাশ থানায় নিয়ে যেতে বাঁধা প্রদান করে এবং বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ এবং বিনা ময়না তদন্তের আবেদন করেন।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদশক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
